ভারতের বিশ্বকাপে সাকিব-মুশফিকদের শেষ সুযোগ

শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ। ভারতের মাটিতে চলছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। ২২ গজের লড়াইয়ের উত্তাপে গা মাখছে ক্রিকেটবিশ্ব। কোন দলের কতদূর যাওয়ার সম্ভাবনা, সেই আলোচনাও চলছে। ভারতের আসরে অংশ নেওয়া ১০ দলের শক্তি-দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়েই এই আয়োজন। আজ থাকছে বাংলাদেশকে নিয়ে-
 
পরতে পরতে রোমাঞ্চে ঠাসা সিনেমা যেমন হয় আর কী! হঠাৎই দৃশ্যপট পাল্টে গল্পে নতুন মোড় নিলো কিংবা দেখা গেল যাকে সাদামাটা একটা চরিত্র ভাবা হচ্ছিল, তিনিই আসলে ভিলেন। অথবা নায়ক কে, ভিলেন কে, সিমেনার শেষেও স্পষ্ট হলো না। পরিচালক দর্শকের ওপরই ছেড়ে দিলেন সিদ্ধান্ত। তামিম ইকবালের বিশ্বকাপ খেলা-না খেলা নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন এমন একটা সিনেমাই দেখেছে।

শেষ পর্যন্ত তামিম বিশ্বকাপে যাননি। তাকে ছাড়াই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল। যেখানে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ২০১১ বিশ্বকাপের পর আবার ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার নেতৃত্বে বাঁহাতি অলরাউন্ডার। দলে আছেন সাকিবের মতোই পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে আসা মুশফিকুর রহিম। আগের চারবারের চেষ্টায় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। বয়সের হিসাব টানলে এটাই তাদের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ। শেষ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে নিশ্চয় আরও ভালো করার স্বপ্ন দেখছেন সাকিব-মুশফিক।

এই দুই অভিজ্ঞের সঙ্গে দলে আছেন মাহমুদউল্লাহ। লম্বা সময় ওয়ানডে ক্রিকেটের বাইরে থাকায় তার বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে শুধু ফেরেননি, বিশ্বকাপ দলেও আছেন। চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলা মাহমুদউল্লাহরও হয়তো এটাই শেষ বিশ্বকাপ।

ব্যাটিংয়ে তাদের সঙ্গে লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয় কিংবা ফর্মে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত গড়ে দিতে পারেন পার্থক্য। তবে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মূল শক্তি অন্য জায়গায়। ভারতে স্পিন-সহায়ক পিচ হলেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মূল অস্ত্র পেস বোলিং। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান সাকিব- এই পাঁচজনকে নিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে তারা গেছেন বিশ্বকাপে। পার্থক্যটা গড়ে দিলে পারেন এই পেসাররা।

একনজরে

অধিনায়ক: সাকিব আল হাসান।

কোচ: চন্ডিকা হাথুরাসিংহে।

ডাকনাম: টাইগার্স।

র‌্যাংকিং: ৮।

বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ৬ বার (১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯)।

বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: কোয়ার্টার ফাইনাল-২০১৫।

আগের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স

২০১৫ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। চার বছর পরের বিশ্বকাপে স্বপ্ন হয়েছিল আরও বড়। অন্তত সেমিফাইনাল খেলার প্রত্যাশা ছিল। কেউ কেউ শিরোপা জেতার আশারও করেছিল। যদিও কিছুই হয়নি। রবিন রাউন্ড পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রাপ্তি বলতে দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়। অষ্টম হয়ে ২০১৯ সালের আসর শেষ করে বাংলাদেশ।

কীভাবে বিশ্বকাপে: ওয়ানডে সুপার লিগের সেরা আট দল সরাসরি নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলের তিনে থেকে পায় ভারতের বিশ্বকাপের টিকিট।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সূচি

৭ অক্টোবর: আফগানিস্তান (ধর্মশালা), সকাল ১১টা
১০ অক্টোবর: ইংল্যান্ড (ধর্মশালা), সকাল ১১টা
১৩ অক্টোবর: নিউজিল্যান্ড (চেন্নাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১৯ অক্টোবর: ভারত (পুনে), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৪ অক্টোবর: দক্ষিণ আফ্রিকা (মুম্বাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৮ অক্টোবর: নেদারল্যান্ডস (কলকাতা), দুপুর ২-৩০ মিনিট
৩১ অক্টোবর: পাকিস্তান (কলকাতা), দুপুর ২-৩০ মিনিট
৬ নভেম্বর: শ্রীলঙ্কা (দিল্লি), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১১ নভেম্বর: অস্ট্রেলিয়া (পুনে), সকাল ১১টা

নজরে থাকবেন

সাকিব আল হাসান: কার না জানা সাকিব আল হাসান হলেন বড় মঞ্চের খেলোয়াড়। ২০১৯ বিশ্বকাপে সেটি আরও ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে ছুটেছিল রানের ফোয়ারা। বোলিংয়ে উইকেট উৎসব। এবারের বিশ্বকাপে আবার তিনি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। বলা হয় সাকিব একা দুজনের কাজ করে থাকেন। একদিকে বোলিংয়ের অন্যতম সেরা অস্ত্র, অন্য দিকে ব্যাট হাতে আস্থার প্রতীক। বিশ্বকাপে তার কাছে প্রত্যাশাও থাকবে বেশি।

তাসকিন আহমেদ: ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা হয়নি তাসকিন আহমেদের। চোটের কাছে হার হেরে কান্নায় ভিজেছিল তার চোখ। সেই তাসকিন চোট সারিয়ে ফিরেছেন দোর্দণ্ড প্রতাপ দেখিয়ে। ফিরে আসা তাসকিন আরও বেশি ভয়ঙ্কর। এবারের বিশ্বকাপে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের মূল অস্ত্র পেস বোলিং। তাসকিন এই আক্রমণের নেতা। আগের বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় যন্ত্রণা এবার সুদে-আসলে নিশ্চয়ই তুলতে চাইবেন এই ডানহাতি পেসার।

শক্তি

অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশলে ভারসাম্যপূর্ণ দল।

অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ব্যাট কিংবা বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন

বিশ্বকাপের আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন নাজমুল হাসান শান্ত। সেটি ধরে রাখতে পারলে প্রতিপক্ষের ভয়ের কারণ হবেন।

পেস আক্রমণে বাংলাদেশ এখন দুর্দান্ত। ভারতের কন্ডিশন স্পিন সহায়ক হলেও তাসকিন আহমেদ-মোস্তাফিজুর রহমানরা হয়ে উঠতে পারেন ভয়ঙ্কর।

ভারতের কন্ডিশন অনেকটা বাংলাদেশের মতো। সেই সুবিধা অবশ্যই পাবেন সাকিবরা।

দুর্বলতা

ওপেনিং সবসময় সমস্যা বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের আগেও ওপেনাররা রানে নেই। তার ওপর আবার তামিম ইকবাল নেই।

তামিমের না থাকাটা অবশ্যই ব্যাটিং অর্ডারে বড় ক্ষতি।

আইসিসির ইভেন্টে কোনও শিরোপা নেই।

রের মাঠে ধারাবাহিক সাফল্য পেলেও বিদেশে এখনও দুর্বলতা থেকেই গেছে।

স্লগ ওভারে রান তোলার মতো হার্ডহিটার নেই।

এশিয়া কাপ ও ঘরের মাঠের নিউজিল্যান্ড সিরিজ একেবারেই ভালো যায়নি বাংলাদেশের।

ভবিষ্যদ্বাণী: সেমিফাইনাল।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব।