বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান অ্যাডভোকেট ড. মশিউর মালেক। শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় স্মার্ট বরগুনা গড়ার লক্ষ্যে এমপি প্রার্থী হওয়ার জন্য এলাকাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক ইত্তেফাককে বলেন, শুধু আমার সংসদীয় এলাকায় নয়, পুরো বরগুনা জেলা নিয়ে আমার স্বপ্ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে। যেমন; ১. বরগুনা জেলার বন, পরিবেশ, জলবায়ু, মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা । ২. মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। ৩. তরুণ ও বেকার জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা। ৪. তরুণ ও যুবকদের শারীরিক সুগঠনের শরীর ও ক্রীড়া চর্চার জন্য প্রত্যেক উপজেলায় ব্যায়ামাগার ও স্টেডিয়াম স্থাপন করব।
৫. বেতাগী বন্দরের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শিল্প ও বাণিঝ্যের প্রসার ঘটানো। অতীতের ন্যায় সাংস্কৃতিক বিনোদন ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বেতাগী সদরে একটি আধুনিক শিক্ষা নগরীতে পরিণতকরণ ও বেকারদের কাজের সুযোগ তৈরিকরণ। ৬. পাথরঘাটার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের উন্নয়নে হরিণঘাটাকে উন্নতমানের পর্যটক কেন্দ্রে উন্নীতকরণ। পাথরঘাটা উপজেলার পানীয় জলের অভাব দূরীকরণে পানি শোধনাগার স্থাপনসহ প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত সংখ্যাক গভীর নলকূপ স্থাপন করব। ৭. বামনা সদরে বাণিজ্য ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে অর্থনৈতিক কর্মচঞ্চলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মতৎপরতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকরণ। ৮. এলাকার শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারসহ কর্মসংস্থানের জন্য উপজেলায় উপজেলায় ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কেন্দ্র স্থাপন। ৯. নুতন প্রজন্মকে মেধাবী ও প্রতিভাবান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সব উপজেলায় বেসরকারি উদ্দেগ্যে উন্নতমানের একাধিক প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মেধালালন কেন্দ্র স্থাপন।
১০. বয়স্ক ও তরুণদের জন্য আলাদা আলাদা প্রশান্তি ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপন। ১১. উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিতকরণসহ তদারকির ব্যবস্থা করা হবে। ১২. প্রতিটি গ্রামে মসজিদভিত্তিক সামাজিক সমস্যা নিরসন কেন্দ্র স্থাপন। ১৩. গ্রামীণ আদালতের কাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যকরী ভূমিকা নিশ্চিতকরণ। ১৪. প্রবাসীদের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজণীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ১৫. প্রতিটি পরিবারে চাহিদা সাপেক্ষে কমপক্ষে একজনের জন্য প্রবাসে চাকরি নিশ্চিত করব। ১৬. প্রতিটি এলাকায় নির্মল বায়ু সেবনের লক্ষ্যে প্রাতঃ ও সান্ধ্যকালীন ভ্রমণের জন্য নদীর পাড়ে নিরাপদ উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করব। ১৭. সব ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জবাবদিহিতাসহ জনগণের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিতকরণ। ১৮. সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিদ্যমান হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক সমূহের উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রযুক্তিকরণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করব। ১৯. কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে হাটবাজারের উন্নয়ন করব। ২০. নাসিং ইন্সিটিটিউট, কেয়ার গিভার ও শিশু পালন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বৈদেশিক নিয়োগ কেন্দ্র স্থাপন করা। ২১.ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উন্নয়নসহ মানসিক সুকুমার বৃত্তির উন্নয়নের জন্য প্রতি উপজেলায় সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র স্থাপন।
অ্যাডভোকেট ড. মশিউর মালেক ইত্তেফাককে জানান, দেশরত্ন শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ নিশ্চিতের জন্যই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বলেন, তাকে দলীয় প্রতীক নৌকা দেওয়া হলে নিরঙ্কুশভাবে আওয়ামী লীগ বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনে অন্য যেকোন প্রার্থীর চেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।
অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের খ্যাতিমান আইনজীবী ও বিশিষ্ট লেখক। ‘নিষিদ্ধ কথা’, ‘খোকা থেকে জাতির পিতা’, ‘বাংলার সর্বনাশের ঘণ্টা’, ‘মূখ্যমন্ত্রীর অভ্যুত্থান’, ‘রাজনীতির ফিনিক্স পাখি শেখ হাদিনা’ মতো উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসহ তার বহু রচনা ও সম্পাদনা গ্রন্থ রয়েছে। এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। কর্ম সূত্রে ঢাকায় থাকলেও এলাকায় বেশ গুরুত্ব রয়েছে তার।
স্থানীয়রা জানান, অ্যাডভোকেট ড. মশিউর মালেক বিভিন্ন সময় বরগুনা (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) জেলার পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য দেশীয় প্রজাতির মৎস্য ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পে বরগুনা জেলাকে অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য গোপালগঞ্জ মৎস্য চাষি সমিতি গঠন করেন। ফলে এখন এ সমিতির তদারকিতে শত শত মৎস্য চাষি উপকৃত হচ্ছে। ছাগল-গরু পালন, ভ্যান-দোকান, জাল, ও পোনা চাষের সুবিধা পাচ্ছে। বিশেষ করে বেতাগীতে প্রথম গ্রামীণ টাওয়ার এবং ওয়াইফাই টাওয়ার মশিউর মালেকের পরামর্শে স্থাপিত হয়। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এলাকার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। অ্যাডভোকেট ড. মশিউর মালেকের মতো সৎ, সাহসী ও নির্মোহ ব্যক্তিকে আরও আগেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত ছিল।