২২ গজের উইকেটে ব্যাটিং করছেন সাকিব ও মুশফিক। গ্যালারি থেকে তাদের সমর্থন দিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন দৃশ্য বাংলাদেশের যে কোনো স্টেডিয়ামেই সচরাচর দেখা যায়। কিন্তু এবার যুক্তরাজ্যেও ঠিক এই দৃশ্য চোখে পড়ছে প্রতি ম্যাচে।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রচুর ক্রিকেট ভক্ত রয়েছেন। চাকরি, পড়াশোনা বা অন্যান্য কারণে বিদেশে পড়ে থাকলেও তাদের মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। ইংল্যান্ড ও প্রতিবেশী ওয়েলসের মোট ১১টি ভেনুতে এবারের বিশ্বকাপের ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের খেলা পড়েছে আটটি ভেনুতে। ওভাল, কার্ডিফ, ব্রিস্টল, টনটন, নটিংহ্যাম, সাউদাম্পটনের মাঠে ইতোমধ্যে সাতটি ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে টাইগারদের। যে কয়টি ম্যাচ হয়েছে বাংলাদেশের সেখানে প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি ছিল। লাল সবুজ পতাকা দুলিয়ে তারা দেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
কেনিংটন ওভালের কথা বলা যাক। এই মাঠের ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে প্রতিদিন বাংলাদেশ সমর্থকই ছিল ২০ হাজারের কাছাকাছি। লন্ডন ও আশেপাশের এলাকা থেকে বাঙালিরা যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল ওই দুদিন। বিশ্বকাপ দেখতে এবার দেশ থেকেও প্রচুর ক্রিকেট পাগল ছুটে এসেছেন ইংল্যান্ডে। লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে যেদিকে চোখ যায় শুধু লাল সবুজ পতাকার ছড়াছড়ি। প্রতিটি চার, ছক্কার পরপরই সোল্লাসে চিত্কার করে উঠেছিলেন দর্শকরা।
বাংলাদেশ সমর্থকদের উপস্থিতি পুলকিত করেছে আইসিসিকে। বিস্মিত হচ্ছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা। ওভালে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বাংলাদেশি দর্শকদের বিষয়ে কিউই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান রস টেলর বলছিলেন, ‘এত বাংলাদেশি সমর্থক ছিল গ্যালারিতে যেন মনে হয়েছে তাদের নিজের মাটিতেই খেলা হচ্ছে।’
কার্ডিফে ইংল্যান্ড ম্যাচের দিন বাংলাদেশ সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন ইংলিশ বোলার লিয়াম প্লাংকেট। তিনি বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মত বাংলাদেশের দর্শকরা মাঠে প্রচুর হৈচৈ করেন। এতে খেলার প্রতি মনোসংযোগে বিঘ্ন ঘটে। তবে তাদের দর্শকরা এভাবেই খেলা উপভোগ করতে পছন্দ করেন।’
আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ভারত ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে। ম্যাচটি দেখতে সারা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা আসবেন। এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার। ইতোমধ্যে খেলার প্রায় সব টিকেটই বিক্রি হয়ে গেছে। কোথাও নির্ধারিত দামে টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে চড়া দাম দেখানো হচ্ছে যা ১৮৫ পাউন্ড থেকে শুরু করে ৩৮৬ পাউন্ড পর্যন্ত।
ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে উন্মাদনা শুধু যে বাংলাদেশি সমর্থকদেরই তা কিন্তু নয়। এবারের বিশ্বকাপ টিভিতে দেখছেন কোটি কোটি দর্শক। এছাড়া ইউটিউব, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ও টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ এই টুর্নামেন্টের সাথে যুক্ত থাকছেন। ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল নামে একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা যায়, বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ কোটির বেশি ভারতীয় দর্শক স্টার টিভিতে বিশ্বকাপ দেখেছেন।
বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকায় উত্সাহ পাচ্ছে আইসিসি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মানু সোহানি বলেন, প্রচুর দর্শক এবার আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সাথে যুক্ত হয়েছেন যে কারণে এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও সেরা ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। দর্শক সংখ্যা এবার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।