ফিরেই আবাহনী আজ নোয়াখালী যাচ্ছে

আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমস কানে হেডফোন গুঁজে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। সাংবাদিক দেখে হেড ফোন খুলে কুশল বিনিময় করলেন। স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন মোটরবাইক চালিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। ডিফেন্ডার রায়হান হাসান অনুশীলন হলে গেলেও বরফ ভর্তি ড্রামে ডুব দিচ্ছিলেন। ক্লাব ভবনের বারান্দায় মিডফিল্ডার সোহেল রানা ওয়েট ট্রেনিংয়ে ব্যস্ত। ক্লাব আঙ্গিনায় ছোট ছোট শিশু বৃষ্টি ভেজা কাঁদা মাঠে ফুটবল খেলছিল। বারান্দায় বসা আবাহনীর শুভাকাঙ্ক্ষিরা। আবাহনী ডেরায় ঢুকেই এমন প্রাণচাঞ্চল্য খুব কমই দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে। কথাটা এজন্যই আসে কারণ পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরদিনও অনেক সময় আবাহনী টেন্টে গিয়ে উত্ফুল্লতা দেখা যায়নি। কালকের চিত্রটা একটু আলাদা। ভারতের গৌহাটিতে ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে এএফসি কাপ ফুটবলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর ফুটবলারদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ।

ক্লাব থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হাসি মুখে আবাহনীর কোচ মারিও লেমস বলছিলেন তারা খুশি। কেমন হয়েছে ম্যাচটা? এমন প্রশ্নে লেমসের চটজলদি উত্তর, ‘ভালো, ভালো। খুবই ভালো। না না আমার কাছে কখনো মনে হয়নি হেরে যেতে পারি। সব সময় একটা আত্মবিশ্বাস ছিল ছেলেরা লড়াই করছে গোল আদায় হয়ে যাবে।’ আবাহনীকে এই কোচ দারুণ একটা সাফল্য উপহার দিয়েছেন।

আবাহনী চারবার এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবল খেলে বিদায় নিয়েছিল। দুইবার এএফসি কাপ ফুটবলে খেলেও নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। এবার সোনার হরিণ ধরা পড়েছে হাতে। বাড়তি খুশি স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনের। গেটের সামনে মোটরবাইক থামিয়ে জীবন বললেন, ‘আমরা খুব টেনশনে ছিলাম। নেপালে চেন্নাইন এফসির ম্যাচটার খবর রাখছিলাম আমরা। ওখানে শুনি গোল হয়নি, আমরা সেভাবে খেলছি। আবার যখন শুনি গোল হয়েছে, আমরা আক্রমণে যাই। একবার নিচে নেমে আসি। আবার যাই আক্রমণে। ম্যাচ জিতে ফিরেছি বলে অন্যরকম লাগছে।’

সোহেল রানা এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। ওয়েট ট্রেনিং করছিলেন। মুখে চওড়া হাসি ছড়িয়ে বললেন, ‘অনেক টেনশনে ছিলাম। দেশের জন্য একটা কিছু করতে পেরেছি।’

বৃহস্পতিবার অনেক রাতে ঢাকায় ফিরে গতকাল বিকালেই অনুশীলনে নামেন ফুটবলাররা। লিগের খেলা তাই বিশ্রাম নেই। আজ সকালেই নোয়াখালী যাচ্ছে আবাহনী। সোমবার বিজেএমসির বিপক্ষে ম্যাচ। বৃষ্টি ভেজা কাদা মাঠে অনুশীলন করে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন সহকারী কোচ ঝন্টু জাকারিয়া বাবু। তখনো কাদা মাটি গায়ে রায়হান। ড্রাম ভর্তি বরফ পানিতে নেমে রায়হান বললেন, ‘লিগ চ্যাম্পিয়ন আর এএফসির গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দুটো দুই রকম। তবে আমার কাছে খুবই আনন্দ লাগছে। অনেক দিন পর একটা কিছু করতে পেরেছি। আমরা যখন প্লেনে তখন ককপিট হতে ঘোষণা দেওয়া হলো আবাহনীর ফুটবলাররা সাফল্য জয় করে ঘরে ফিরছে। তখন সব যাত্রী হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে।’ এক সময় বেক্সিমকো গ্রুপে সাংবাদিকতা করতেন খন্দকার আরিফুল ইসলাম। এখন প্রবাসী। ঢাকায় এসেছেন। আবাহনীর এমন আনন্দের দিনে গতকাল বিকালে ধানমন্ডির আবাহনী টেন্টে গিয়ে কোচ খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।