বেড়েছে আদা রসুন ডিম আলুর দাম

এখনো বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আদা, রসুন। সেই উত্তাপ না কমতেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে এবার ডিমের বাজার লাগামহীন। এই তালিকায় রয়েছে আলুও।

গতকাল শুক্রবার কাওরানবাজার ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। গতকাল বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয় ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়। যা গত দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩০ থেকে ৩২ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে গত বছর এই সময় প্রতি হালি ডিমের দাম ছিল ২৪ থেকে ২৮ টাকা। সংস্থাটির হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমের দাম বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

শান্তিনগর বাজারের ডিম বিক্রেতা আমিনুল বলেন, আমরা চাহিদামতো ডিম পাচ্ছি না। রমজানের সময়ও বাজারে ডিমের ব্যাপক সরবরাহ ছিল। কিন্তু এখন কম। ফলে ডিমের দাম বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুরের ইউনাইটেড এগ্রো কমপ্লেক্সের স্বত্বাধীকারী খন্দকার মো. মোহসিন গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, রমজানের পর খামারের মুরগি এক ধরনের ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে খামারের উত্পাদন কমে গেছে। বেড়েছে ডিমের দাম। তিনি বলেন, রমজানের সময় খামারের উত্পাদন যথেষ্ট ভালো ছিল। ফলে এ সময় ডিমের দামও ছিল কম। তবে ভাইরাসজনিত এই জ্বরের প্রকোপ থেকে খামারগুলো রক্ষা পেলে ডিমের উত্পাদন আবার আগের অবস্থায় চলে আসবে। তখন দামও কমে যাবে।

ডিমের পাশাপাশি দাম বেড়েছে আলুর। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আলুর দাম বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা।

দাম বেড়েছে আমদানিকৃত পিঁয়াজের। কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। আর দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।

টিসিবির দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনে গতকাল আদা মানভেদে ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা ও রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয় বলে তুলে ধরা হয়েছে। অথচ রমজানের ঈদের আগে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম ছিল মানভেদে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা। আর প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। এ ব্যাপারে গত ১৮ জুন সচিবালয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হলেও এখনো কমেনি আদা, রসুনের দাম।

বাবুবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, চাহিদার তুলনায় আদার সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, দেশে এবার আদার উত্পাদন কম হয়েছে। এছাড়া ভারত, চীন ও মিয়ানমারেও আদার উত্পাদন কম হয়েছে। আর এসব দেশ থেকেই মূলত আদা আমদানি করা হয়। ফলে আদার দাম বাড়তি।