শেষ বেলায় জ্বলে ওঠল দক্ষিণ আফ্রিকা

কথায় আছে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে আর সেটি হচ্ছে না। যতোক্ষণে স্বমহিমায় ফিরেছে, ততোক্ষণে যা হবার হয়ে গেছে। বিদায় ঘণ্টা বেঁজে গেছে দলটির। বিদায় বেলায় শ্রীলঙ্কার কপালও পুড়ে গেল দলটি। কারণ এই জয়ে লঙ্কানদেরও শেষ চারে যাওয়ার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেল। 

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ২০৪ রানের লক্ষ্যটা ছিল একেবারেই হাতের নাগালে। সেই লক্ষ্য তাই সাবলীলভবেই তাড়া করতে সক্ষম হয়েছে প্রোটিয়ারা। ৩৭.৬ ওভারে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান করেছে তারা। তাই নয় উইকেটের বড় জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। 

এই জয়ে ৮ ম্যাচ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে ৮ নম্বরে ওঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে শেষ চারে যাওয়ার আশা দলটির আগেই শেষ হয়ে গেছে। নিজেদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার জন্যও শেষ চারে যাওয়ার আশা প্রায় শেষ করে দিয়েছে প্রোটিয়ারা। কারণ ৭ ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্ট নিয়ে সাতে থাকল শ্রীলঙ্কা। শেষ দুই ম্যাচে জিতলেও অন্যদের দিকে তাঁকিয়ে থাকতে হবে। 

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১ রানে কুইন্টন ডি ককের উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। মালিঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। লঙ্কান বোলারদের সাফল্য বলতে এতোটুকুই। দ্বিতীয় উইকেটে হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসিস জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। ১৭৫ রানের জুটি গড়ে এ দুজন অপরাজিত ছিলেন। প্লেসিস ১০৩ বল থেকে ৯৬ এবং আমলা ১০৫ বল থেকে ৮০ রান করেন। 

এর আগে শুক্রবার ইংল্যান্ডের ডারহামের চেস্টার লি স্ট্রিটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট হাতে নেমে তিন বল বাকি থাকতেই সবক’টি উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা করেছে ২০৩ রান। প্রিটোরিয়াস ও ক্রিস মরিসদের বোলিংয়ের সামনে যেন দাঁড়াতেই পারেননি লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা।

ইনিংসের প্রথম বলেই করুনারত্নে ফিরে গেলে শুরুতেই হোঁচট খায় শ্রীলঙ্কা। শুরুর ধাক্কা সামলাতে কুশাল পেরেরার সঙ্গী হন অভিস্কা ফার্নান্দো। দ্বিতীয় উইকেটে বেশ দ্রুততার সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়ে ভালোভাবেই সামলে নিচ্ছিলেন তারা। তবে ২৯ বল থেকে ৩০ রান করে ভালো শুরুর আভাস দিয়েও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলে আউট হয়ে যান ফার্নান্দো। এরপর প্রিটোরিয়াসের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন পেরেরা। ৩৪ বল থেকে তিনিও করেন ৩০ রান। দলের সর্বোচ্চ স্কোর এই দুজনেরই।

দলীয় ১০০ রানে ক্রিস মরিসের বলে বোল্ড হয়ে যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস (১১)। উইকেট পতনের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে শেষ পর্যন্ত। যে কারণে বড় স্কোরের জন্য মারমুখি ব্যাটিংয়ের দিকে যেতেই পারেননি লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। শ্রীলঙ্কার অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ২৪ রান করেন। এছাড়া কুশাল মেন্ডিস ও থিসারা পেরেরা করেন ২৩ রান করে। প্রিটোরিয়াস ও মরিস তিনটি করে উইকেট নেন। 

ইত্তেফাক/কেআই