একই স্থানে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, টানটান উত্তেজনা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে একই দিনে পাল্টাপাল্টি শান্তি সমাবেশ ও বর্ধিত সভা নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। 

জানা গেছে, আগামী শনিবার (১৪ অক্টোবর) বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য আসম ফিরোজ (একাংশ) জনতা ভবনে, অন্যদিকে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (আরেক আংশ) মো. জসীম উদ্দিন ফরাজী স্থানীয় পাবলিক মাঠে শান্তি সমাবেশ ডেকেছেন। একই দিনে একই সময়ে দু’গ্রুপের সমাবেশ ডাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে। পাল্লাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাউফল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী বাছাই সভায় জনতা ভবনের সামনে বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ হাসানের উপর হামলা করে আসম ফিরোজ অনুসারিরা।

সর্বশেষ, ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩ তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনতা ভবনের অদূরে মিছিল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অবদুল মোতালেব হাওলাদারের উপর হামলা করে আসম ফিরোজ সমর্থিত নেতাকর্মীরা। এসময় ওই মিছিলের গাড়ীতে অবস্থান করছিলেন আসম ফিরোজ (এমপি)। জন্মদিন পালন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ছিলো ওই দিন। 

বাউফল থানার ওসি এটিএম আরিচুল হক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, কোন পক্ষের চিঠি এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, শান্তি সমাবেশ ও বর্ধিত সভার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। জনতা ভবনে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগা ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান ও আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। জনতা ভবন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় নয়। এটি একটি বিতর্কিত জায়গা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, জসীম ফরাজীর কমিটি জেলা কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ওই প্রোগ্রাম সম্পর্কে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না।