বালুবাহী একটি ট্রলার (বাইতুর রশীদ) ছিনতাই করে আত্রাই নদী হয়ে পালানোর সময় বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পরেছেন আব্দুল মালেক (৪৭) নামের এক ব্যক্তি। রাতেই ট্রলারসহ ওই ব্যক্তিকে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ওই ছিনতাইকারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ছিনতাইকারী আব্দুল মালেক সিংড়া উপজেলার বলিয়াবাড়ি গ্রামের আমানত বেপারীর ছেলে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, বালু বহনের কথা বলে ৫ জন কর্মচারীসহ কোটি টাকা মূল্যের ট্রলারটি যমুনা নদীর বেড়া উপজেলা থেকে বুধবার গুরুদাসপুরে আনা হয়। গুমানি নদী হয়ে রাত আটটার দিকে উপজেলার মশিন্দা বাজারে ট্রলারের লোকজন নামিয়ে দেন মালেক। পরে কৌশলে ট্রলার নিয়ে আত্রাই নদী বেয়ে সিংড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বড় আকারের ট্রলারটি যোগেন্দ্রনগর এলাকার রাবারড্যামের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে রাবারড্যামের গাডার ওয়ালের কিছু অংশের ঢালাই ভেঙে যায়।
উপজেলা নির্বাহী শ্রাবণী রায় ইত্তেফাককে জানান, স্থানীয়দের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিয়ে ট্রলারটি জব্দ করা হয়। এ সময় ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। রাবারড্যামের গাডার ওয়াল ভাঙ্গার ঘটনায় সরকারি সম্পদের ক্ষতি করায় জরিমানা করা হবে।
গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক এমরান ইত্তেফাককে বলেন, ছিনতাই হওয়া ট্রলারটি এখন নন্দকুঁজা নদীতে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ট্রলারের প্রকৃত চালক পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলী বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় ছিনতাই মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বাল্কহেড ট্রলারটির প্রকৃত মালিক মাদারীপুরের শিবচর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম। তিনি বর্তমানে দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন। মূলত ব্লাকহেডটি বাড়ায় চলে।
আসামি আব্দুল মালেক ইত্তেফাককে বলেন, তার ছোটভাই আব্দুল জব্বারের সঙ্গে ব্যবসা করতেন ট্রলারের মালিক আব্দুস সালাম। মালিককে না জানিয়ে ট্রলারটি তারা নিয়ে আসেন সিংড়া নেওয়ার জন্য। কিন্তু ট্রলারটি রাবারড্যামে আটকে যাওয়ায় তাকে রেখে অন্যরা পালিয়ে গেছেন।
ছিনতাইকারী আব্দুল মালেকের ছোটভাই আব্দুল জব্বার ইত্তেফাককে জানান, ট্রলার মালিকের সঙ্গে তার ১৬ লাখ টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। এ কারণেই তিনি ভাই আব্দুল মালেককে দিয়ে ট্রলারটি নিজের দখলে নিয়েছিলেন।