রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া বস্তিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ৪৪ বছরে ২৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ জুন খুন হন নিহত হাসান মুহুরির স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি। আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর একটিরও বিচার হয়নি। আশপাশের লোকজন বলছেন, যদি হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার হতো তাহলে আর কেউ নতুন করে খুন করার সাহস করতো না। তবে চনপাড়াবাসীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, চনপাড়াবাসীকে রাজনীতির কাজে ব্যবহার করা হয়। ফলে সন্ত্রাসীরা প্রশ্রয় পায়। রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ হয়ে গেলে চনপাড়া শান্ত হয়ে যাবে।
জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে নদী ভাঙা, ঘর ভাঙা মানুষদের শীতলক্ষ্যা নদী ঘেঁষা ওয়াসার ১২৬ একর জমিতে ঠাঁই দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে চনপাড়া বস্তি হিসাবে রূপ নেয়। ১২ হাত বাই ১৫ হাতের কয়েক হাজার ঝুঁপড়ি ঘরে প্রায় দেড় লাখ লোকের বসবাস। ১৯৭৬ সালে বাদশা মিয়া খুনের মধ্য দিয়ে চনপাড়ায় খুনের ঘটনা শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে খুনের শিকার হন খয়ের পার্টির সদস্য হাফেজ আলী, ১৯৮২ সালে খুন হন পারভেজ মিয়া, ১৯৯৪ সালে খুনের শিকার হয় চাঁন মিয়া, ২০০৩ সালে ফিরোজ সরকার, ২০০৪ সালে ফারুক মিয়া। ২০০৫ সালে খুন হয় পুলিশের এএসআই হানিফ মিয়া ও ক্রিকেটার ফালান মিয়া। ২০০৮ সালে খুন হন আব্দুর রহমান, ২০১১ সালে হত্যার শিকার হন র্যাবের সোর্স খোরশেদ মিয়া। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ প্রজন্মলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হত্যার শিকার হয় আসলাম হোসেন নামে এক স্কুলছাত্র, ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাসান মুহুরিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ জুন খুন হন নিহত হাসান মুহুরির স্ত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি।
নিহতদের পরিবার জানিয়েছে, আগের একটি খুনেরও বিচার হয়নি। কোনোটি পুলিশের দুর্বল এজাহারের কারণে কোনোটি সাক্ষীর কারণে কিংবা কোনোটি রাজনৈতিক চাপের কারণে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আদালতে প্রক্রিয়াধীন। তবে তারা বিচার পাবে কি না তা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। পরিবারগুলো বলেছে, এভাবে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।