প্রকাশ্যে না বললেও মনে মনে সেমিফাইনাল স্বপ্নের জাল বুনেই ভারতের মাটির ২০২৩ বিশ্বকাপে খেলছে বাংলাদেশ। এই স্বপ্নের পথে সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতোই। আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দিয়েছে। গেঁথে চলা সেমিফাইনাল স্বপ্নটা উজ্জ্বল রাখতে হলে আজ তৃতীয় ম্যাচে সাকিবদের জিততেই হবে। কিন্তু শঙ্কার বিষয় হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ‘অধরা’ নিউজিল্যান্ড।
যারা টানা দুই ম্যাচেই দাপুটে জয়ে রীতিমতো উড়ছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে শুরু, দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকেও খড়কুটোর মতো ভাসিয়ে দিয়েছে কিউইরা। নিউজিল্যান্ড পয়েন্ট তালিকারও এক নম্বরে। বোঝাই যাচ্ছে, কেন উইলিয়ামসের দল টগবগে আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। সেমির স্বপ্ন রঙিন রাখতে হলে আজ কিউইদের এই টগবগে আত্মবিশ্বাসের পাত্রটাই ফুটো করে জয়ের হাসি হাসতে হবে সাকিবদের। কাজটা বাংলাদেশের জন্য অসাধ্য নয় বটে। তবে শুধু কঠিন নয়, মহা কঠিন। ওপরের তথ্যই সে কথা বলছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি সাক্ষাতের পরিসংখ্যানও আজ সাকিবদের চ্যালেঞ্জটাকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে যে কখনোই হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪১ সাক্ষাতের মধ্যে ৩০ হারের বিপরীতে ১০টি জয় রয়েছে বাংলাদেশের। দুই বার নিজেদের ঘরের মাঠে সাকিবরা কিউইদের ‘বাংলাওয়াশ’ করেছে। কিন্তু ওয়ানডে বিশ্বকাপে কিউইদের বিপক্ষে কখনোই জয়োল্লাসের ছবি বাংলাদেশ তৈরি করতে পারেনি। বিশ্বকাপে মোট পাঁচ বারের সাক্ষাতে পাঁচ বারই জয়ী হয়েছে নিউজিল্যান্ড। পাঁচ ম্যাচের প্রথম তিনটিতে বাংলাদেশ কোনো রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি। পরের দুই ম্যাচে (২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপে) জয়ের সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত মাথা নিচু করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সুতরাং আজ সাকিবদের সামনে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ। পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে জয়ের ইতিহাস লেখার চ্যালেঞ্জ। পারবে কি সাকিবরা ইতিহাসটা বদলাতে? চ্যালেঞ্জটা কঠিন। তবে সাকিবরা অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দুই সাক্ষাৎ থেকেই।
২০১৫ বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে সাত উইকেটে ২৮৮ রান করে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ তিনটি ছক্কা ও ১২ চারের সহায়তায় খেলেন ১২৩ বলে ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সেটাই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২৮৯ রানের লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ড ৪৭.২ ওভারে ২৬৯ রানেই সাত উইকেট হারিয়ে ফেলে। শেষ ১৬ বলে কিউইদের দরকার ছিল ২০ রান, বাংলাদেশের ছিল তিন উইকেট। বাংলাদেশের জয়ের আশাটা তখন ভালোমতোই জেগেছিল। কিন্তু ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (১০ বলে ১৬*) ও টিম সাউদি (৬ বলে ১২*) হঠাৎ বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হয়ে গুঁড়িয়ে দেন বাংলাদেশের জয়ের আশা।
২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ২৪৪ রানের জবাবে ২৩৮ রানে আট উইকেট হারিয়ে বসে কিউইরা। ফলে ক্ষীণ হলেও জয়ের আশা উঁকি দিয়েছিল বাংলাদেশ শিবিরে। তবে তা শেষ পর্যন্ত উবেই যায়! আজ কি সাকিবদের জয়ের ছবিটা তৈরি হবে?