গুজরাটের সবচেয়ে জনবহুল শহর আহমেদাবাদ। আর এই শহরেই অবস্থিত বিশ্বের সব থেকে বেশি দর্শক ধারক ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়াম নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। একসঙ্গে ১ লাখ ৩৪ হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারেন। আর এই মাঠেই আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। যেখানে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত পাকিস্তান। আর এই খেলায় নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ দেখছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এসে এমনটি জানিয়েছেন তিনি।
গেল মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়া কাপে দুই বার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। যেখানে প্রথমটি বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও দ্বিতীয়টিতে দাপটের সঙ্গে জিতেছিল ভারত। এক মাসের ব্যবধানে আবার মুখোমুখি এই দুই দল। এবার ভারতের মাটিতেই বিশ্বকাপেই তাদের বিপক্ষে নামবেন বাবর আজমরা। তবে স্বাগতিকদের নিয়ে বেশি একটা ভাবতে চাচ্ছে না বাবর আজমরা। তারা দেখছে এত দর্শকের সামনে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বাবর আজম বলেন, ‘সত্যি বলতে এই ধরনের ম্যাচে মানসিকতার একটা ভূমিকা রয়েছে। এটা বড় একটি ম্যাচ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন ম্যাচে সবাই নিজের সেরা খেলাটা দেওয়ার সুযোগ পায়। আমরা আমাদের ভালোগুলো বজায় রাখতে চাই। আহমেদাবাদের স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক মানুষ আমাদের খেলা দেখতে আসবেন। এত মানুষের সামনে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরার সুযোগ আর কোথায় হবে?’
এদিকে এক দিনের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১৩৪ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল যেখানে পাকিস্তানের জয়ের পাল্লাই ভারী। তারা জিতেছে ৭৩ ম্যাচ অন্যদিকে ভারত জিতেছে ৫৬ ম্যাচ। তবে সেই হিসাব এক পাশে রেখে যদি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান টানা হয় তাহলে একপেশিয়া ভাবে এগিয়ে রয়েছে ভারত। আজকের ম্যাচে মাঠে নামার আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপ মঞ্চে সাত বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান আর সব কটি জিতেছে ভারত। এমন পরিস্থিতি মাঠে নামার আগে চাপ রয়েছে কি না, বাবর আজমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাপ খুবই আছে। তবে সেটা ম্যাচের না টিকিটের। প্রচুর মানুষ টিকিট চাইছেন। অনেকে ফোন করছেন। আমরা অবশ্য বাইরের এই চাপ নিচ্ছি না। আগে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারিনি। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কিন্তু আমরা পেরেছিলাম। আমরাই প্রথম পেরেছিলাম। বিশ্বাস করি শনিবারও ভারতের বিরুদ্ধে আমাদের পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পারব। আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।’
এসময় পাকিস্তানি অধিনায়ক আরও বলেন, ‘অনেকেই পূর্ববর্তী রেকর্ডের কথা বলছেন। আপনারা জানেন রেকর্ড কিন্তু ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। আমরাও চেষ্টা করব সেই কাজটা করারই। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে অনেকগুলো বিষয় থাকে। নির্দিষ্ট দিনে যারা ভাল পারফরম্যান্স করতে পারবে, তাদের জেতার সুযোগ বেশি থাকবে। আমার সতীর্থেরা এই দিনটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমি নিশ্চিত ওরা কিছু একটা করবেই।’
চলমান আসরে দুই দলই রয়েছেন ছন্দে। এখন পর্যন্ত খেলা দুইটি ম্যাচের দুটিতেই জয় তুলে নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে সমান গতিতে এগোচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। আর দুই দলের এমন ফর্মে যে আজকে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে তা বলাই যায়।