আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম যেন সিনেমা হলের মতো, প্রেক্ষাগৃহপূর্ণ। যারা টিকিট পেয়েছেন তারাই শুধু উপভোগ করেছেন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আকর্ষণীয় ম্যাচ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটাকে রেখে দেওয়া হয়েছিল ভারত-পাকিস্তানের জন্য। দেশের দূর-দূরান্ত হতে আহমেদাবাদে গিয়ে যারা খেলা দেখেছেন তারা যেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত জয়ের উত্সবটাই আগাম দেখে ফেলেছেন কিনা কে জানে। দুপুরে আরজিৎ সিংয়ের গানের সঙ্গে স্টেডিয়ামের লাখো সমর্থক কণ্ঠ মিলিয়েছেন। আর পাকিস্তানী সমর্থক যারা ছিলেন তারা হয়ত বলেছেন খেলা শেষে গানের আনন্দ ফিকে হয়ে যাবে। পাকিস্তানি সমর্থকরা হতাশ হয়েছেন। পাকিস্তান এতো বাজে পারফরম্যান্স করবে কে জানতো। ভারত ৭ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। সময়ের আগেই বড় ম্যাচটা শেষ হয়েছে। আর অমনি আতশবাজি ফুটল। আকাশ ছোঁয়া উচ্চতায় ভারতের জয় তুলে ধরল। এতো আলোর মাঝেও পাকিস্তানি মুখগুলো অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকল। বাবর আজমরা এভাবে প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারবেন না কে জানতো। পাকিস্তানের ১৯১ রানের জবাবে ভারত ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান করে জয় তুলে নেয় ৭ উইকেটে, ৩০ ওভার ৩ বল খেলে। বিশ্বকাপে ৮ বার ভারত পাকিস্তান ম্যাচ খেলল। ৮বারই ভারত জিতল। বাবর আজম দোষ দিয়েছেন তার বোলাদের। ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢেকে দিতে চাইছেন তিনি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলাটাই হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান লড়াই। ৪৫ ম্যাচের মধ্যে ফাইনালটা বাদ দিলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই হচ্ছে অলিখিত ফাইনাল। এই ম্যাচের ঘ্রাণ শক্তি অনেক বেশি। সুবাশ ছাড়ায় সবার ক্রিকেটীয় নাকে। বাংলাদেশ থেকেও বিমানে চেপে একদিনের জন্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ উপভোগ করতে গিয়েছেন অনেক দর্শক। কিন্তু ক্রিকেটযুদ্ধের লড়াইটা হয়েছে একপেশে। পাকিস্তানের বাবর আজম মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইফতেখার, শাদাব খান, শাহীন শাহ আফ্রিদি, ইমামুল হক, হারিস রউফরা যেন কোনো প্রতিরোধই করতে পারলেন। ভারতের বুমরা, সিরাজ, কুলদীপ, হার্দিক পান্ডিয়া, রোহিত শর্মা, শ্রেয়াস আইয়াররা পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না। পাকিস্তান সমর্থকই না ভারতও অবাক হয়েছে এই পাকিস্তানকে দেখে। ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তী সৌরভ গাঙ্গুলি শচিন টেন্ডুলকার মাঠে বসে খেলা দেখলেন। শচিন ধারাভাষ্য দিতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগেই মন্তব্য করেছিলেন জয় দেখতে এসেছেন তিনি। কলকাতার মহারাজ সৌরভ গাঙ্গুলি ভিআইপি বক্সে বসে দেখলেন তার উত্তরসূরিরা বিশ্বকাপে শতভাগ জয়ের ধারাটা কিভাবে ধরে রাখল। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং নিয়েছিল ভারত। বাবর আজমরা ধরে নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা টস সিদ্ধান্তে ভুল করেছেন।
ব্যাটিং পিচে পাকিস্তানের বডি ল্যাঙ্গুজে দেখে মনে হয়েছিল দারুণ একটা লড়াই হবে। শুরুটা ভালো করেছিলেন আব্দুল্লাহ শফিক এবং ইমামুল হক। এই জুটি ৪১ রান করে। সিরাজ প্রথম উইকেট নেন শফিককে এলবিডব্লিউ করেন। হার্দিক পান্ডে ফেরায় ইমামুল হককে। বাবর আজম এবং রিজওয়ান মিলে একটা ভিত করে দেবেন, এমন আশায় থাকা সমর্থকরাও হতাশ হয়েছেন। তারা ৮২ রানে পার্টনারশিপ করে দলীয় ১৫৫ রানে ড্রেসিং রুমে ফিরে আসেন বাবর আজম (৫০ রান)। রিজওয়ান ৪৯ রান করেন। এই দুজনই বোল্ড হন। বাবরকে সিরাজ এবং রিজওয়ানকে বুমরা বোল্ড করেন। যে পিচে বল টার্ন করছিল না, সেই পিচে বল টার্ন করিয়েছেন বুমরা। এই জুটি ভাঙ্গার পর সুনামী শুরু হয়। ৩৬ রানে ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। বল হাতে দুটো করে উইকেট নিয়েছেন বুমরা, সিরাজ হার্দিক পান্ডিয়া কুলদীপ ও রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের সামনে ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি পাকিস্তান। ভারতের বোলাদের সামনে পাকিস্তানী ব্যাটাররা হামাগুড়ি দিয়েছে। আইসিসির তালিকায় এক নম্বরে থাকা পাকিস্তানকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে ভারত।
১৯২ টার্গেট নিয়ে লড়াই করতে নেমে ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং শুভমান গিল মারমুখি ইনিংস শুরু করেন। ভারতের ব্যাটিংয়ে প্রথম ধাক্কাটা দেন পাকিস্তানের শাহীন শাহ আফ্রিদি। তিনি শুভমানকে দলীয় ২৩ রানে আউট করেন। তৃতীয় উইকেটে বিরাট কোহলি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৬ রান নিয়ে আউট হন। এরপর অধিনায়ক রোহিত শর্মা শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে জয়ের মজবুত ভিত গড়ে তোলেন। ৬৩ বলে ৮৬ রান করে দলীয় ১৫৬ রানে শাহীন শাহ আফ্রিদি রোহিতকে ফেরালে এ হাইপ্রোফাইাল ম্যাচে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। তবে ততক্ষণে ভারত জয়ের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যায়। ম্যাচ জয়ের বাকি কাজটা শ্রেয়াস ও রাহুল মিলে সেরে ফেলেন। শেষ অবদি ৬২ বলে ৫৩ রান করেন আইয়ার ও রাহুল ২৯ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন। শাহীন শাহ আফ্রিদি ২ উইকেট এবং হজাসান ১ উইকেট নেন।