শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ। ভারতের মাটিতে চলছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। ২২ গজের লড়াইয়ের উত্তাপে গা মাখছে ক্রিকেটবিশ্ব। কোন দলের কতদূর যাওয়ার সম্ভাবনা, সেই আলোচনাও চলছে। ভারতের আসরে অংশ নেওয়া ১০ দলের শক্তি-দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়েই এই আয়োজন। আজ থাকছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে-
টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট যায়, বিশ্বকাপের পর বিশ্বকাপ। কিন্তু বদলায় না দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য। ‘চোকার্স’ অপবাদ তাদের আরও আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে। এবার কি ভাগ্য বদলাবে প্রোটিয়াদের? বিশ্বকাপ শুরুর আগে আলোচনায় একেবারেই ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে প্রথম দুই ম্যাচের দাপুটে পারফরম্যান্সে বাজির ধরে এগিয়ে গেছে তারা। চোকার্স অপবাদ ঘুচিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বিশ্বকাপ জিতে নেওয়ার সম্ভাবনা পর্যন্ত দেখছেন অনেকে।
১৯৯২ বিশ্বকাপে নেমেই সেমিফাইনালে খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। নিশ্চিতভাবেই সেটা অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ‘চোক’ করাটা রুটিন বানিয়ে ফেলেছে প্রোটিয়ারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে হাস্যকর রান আউটে সেমিফাইনালে হার। ২০০৭ ও ২০১৫ বিশ্বকাপেও শেষ চারে আটকে যায় তারা।
২০১৯ বিশ্বকাপ একেবারেই ভালো যায়নি। এবারের বিশ্বকাপের আগের সময়টাও তাদের পক্ষে ছিল না। সেকারণে ভারতের আসরে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে দেখা মিললো অন্য এক দক্ষিণ আফ্রিকার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে রেকর্ড ৪২৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তেম্বা বাভুমারা। পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করে ৩১১ রান। দুই ম্যাচেই বড় জয়।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় তারকা কুইন্টন ডি কক। এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান প্রথম দুই ম্যাচেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে ফর্মে আছেন এইডেন মারক্রাম। সঙ্গে কাগিসো রাবাদার নেতৃত্বে পেস আক্রমণও দারুণ পারফর্ম করে যাচ্ছে। এখন কাজ শুধু ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। তাহলেই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে লিখবে নতুন ইতিহাস।
একনজরে
অধিনায়ক: তেম্বা বাভুমা।
কোচ: রব ওয়াল্টার।
ডাকনাম: প্রোটিয়াস।
র্যাংকিং: ৩।
বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ৮ বার (১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯)।
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: সেমিফাইনাল- ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭, ২০১৫।
আগের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স
২০১৯ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ভুলে যাওয়ার এক টুর্নামেন্ট। একেবারেই ভালো যায়নি ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ। দারুণ একটা দল নিয়ে গেলেও ব্যর্থতার তলানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল প্রোটিয়ারা। ৯ ম্যাচে মাত্র তিন জয়ে সপ্তম হয়ে শেষ করতে হয়েছিল বিশ্বকাপ।
কীভাবে বিশ্বকাপে: ওয়ানডে সুপার লিগের সেরা আট দল সরাসরি নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা পয়েন্ট টেবিলের আটে থেকে পায় ভারতের বিশ্বকাপের টিকিট।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ সূচি
১৭ অক্টোবর: নেদারল্যান্ডস (ধর্মশালা), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২১ অক্টোবর: ইংল্যান্ড (মুম্বাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৪ অক্টোবর: বাংলাদেশ (মুম্বাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৭ অক্টোবর: পাকিস্তান (চেন্নাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১ নভেম্বর: নিউজিল্যান্ড (পুনে), দুপুর ২-৩০ মিনিট
৫ নভেম্বর: ভারত (কলকাতা), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১০ নভেম্বর: আফগানিস্তান (আহমেদাবাদ), দুপুর ২-৩০ মিনিট
নজরে থাকবেন
কুইন্টন ডি কক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন কুইন্টন ডি কক। ভারতের বিশ্বকাপ শেষে আর খেলবেন না দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে। সেকারণেই কি এত ভয়ঙ্কর এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান? বিশ্বকাপে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছেন তিনি। প্রথম দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রোটিয়াদের উদ্বোধনী ম্যাচে করেন ১০০ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে ১০৯ রানের ইনিংস। ম্যাচের মোড় পাল্টে দেওয়া ডি ককের ওপর নজর না রাখলে চলে!
কাগিসো রাবাদা: গত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের নেতা কাগিসো রাবাদা। তার কাছে প্রত্যাশা এমনিতেই বেশি। এর ওপর বিশ্বকাপ যখন হচ্ছে ভারতে, তখন এই পেসারের কাছে চাওয়া আরও বেশি হওয়ার কথা। কারণ আইপিএলের খেলেন বলে ভারতের কন্ডিশন তার খুব চেনা। ভারতের মাটিতে রাবাদার সাফল্যের হার ঈর্ষণীয়। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে সেটির প্রমাণও দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই পেসারের শিকার ৩ উইকেট
শক্তি
* দুর্দান্ত পেস আক্রমণ। কাগিসো রাবাদা-লুঙ্গি এনগিদির সঙ্গে আছেন মার্কো ইয়ানসেন ও জেরাল্ড কোয়েৎজি।
* ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডার দারুণ। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন কুইন্টন ডি কক ও এইডেন মারক্রাম।
* স্পিন আক্রমণও ভালো। তাবরেজ শামসির সঙ্গে রয়েছেন কেশব মহারাজ।
* অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের মিশেলে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড।
দুর্বলতা
* নক আউট পর্বে ‘চোকার্স’ অপবাদ সেঁটে আছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেই হারায়।
* ডেভিড মিলার-রাসি ফন ডার ডুসেনের মতো খেলোয়াড়দের ফর্মহীনতা।
* মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব।
* তেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে রয়েছে দুর্বলতা।
ভবিষ্যদ্বাণী: সেমিফাইনাল।
দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড: তেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, লিজাড উইলিয়ামস, রিজা হেনড্রিকস, মার্কো ইয়ানসেন, হেনরিখ ক্লাসেন, এইডেন মারক্রাম, ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিদি, জেরাল্ড কোয়েৎজি, কাগিসো রাবাদা, তাবরেজ শামসি, রাসি ফন ডার ডুসেন, আন্দিলে ফেলুকাও, কেশব মহারাজ।