স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও দৈনিক দেশ রুপান্তর-এর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক জিহাদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। তারা এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোশারফ হোসেন বলেন, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, এটি তাদের অধিকার। সাংবাদিকতা করতে যেয়ে অনেকের অনেক রকম বিপদ এবং হুমকির মুখে পড়তে হয়। জিহাদুল ইসলাম-ও তার শিকার হয়েছেন। এর সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
বিভাগের ৭৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন,’জিহাদের সাথে যা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক এবং যারা করেছে তাদের বিচার দ্রুত হোক সেই প্রত্যাশা করি। তাড়াছা, আমাদের একজন সিনিয়র ভাই এই কাজে জড়িত থাকায় আমি খুবই লজ্জাবোধ করছি। তার উচিত ছিল ছোট ভাই হিসেবে জিহাদকে রক্ষা করা। তা না করে সেখানে তিনিই এমন কাজে সহায়তা করেছেন।‘
৮০ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন বলেন, ‘জিহাদ ভাইয়ের সাথে যে অন্যায় হয়েছে আমরা চাই তার বিচার হোক। নাহলে আমরা যারা সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী আছি, তারা ভবিষ্যৎতে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে ভীতসন্ত্রস্ত থাকবো।‘
জানা যায়, গত রোববার (১৫ অক্টোবর) দৈনিক দেশ রুপান্তরের এক অনলাইন টকশোয় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রিপন গাজীকে কম সময় দেখানো হয়েছে এমন অভিযোগ এনে জিহাদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন রিপন গাজী। এ ঘটনায় প্রাণনাশের শঙ্কায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করেছেন জিহাদুল। জিডি নম্বর ৯৯৮।
জিডিতে সাংবাদিক জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) দেশ রূপান্তরের অনলাইন লাইভ অনুষ্ঠানে রিপন গাজী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ‘লাইভে সেই অনুষ্ঠানে তাকে কম দেখানো হয়েছে’ এমন দাবিতে আমার পূর্বপরিচিত বড় ভাই আকরাম হোসেন রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে আমাকে ফোন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সের চায়ের দোকানের পাশের গলিতে যাই। সেখানে পূর্বপরিচিত আকরাম ভাই আমাকে শাসাতে থাকেন এবং বলতে থাকেন রিপন গাজীকে কেন কম দেখানো হলো? এক পর্যায়ে রিপন গাজী আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং মারধর করেন। রিপন গাজী প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোকে গুলি করে মেরে ফেলব। এরপর সোমবার রিপন গাজী আমার বাসায় লোকজন পাঠায় এবং মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। উল্লেখিত বিষয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’