সারা বাংলাদেশ জুড়ে মোট পূজার সংখ্যা ৪৭ হাজার ৪৪৬টি ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী। এই সময়ে সারা বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ থেকে শুরু করে, প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ছোট বড় অনেক মন্ডপ দেখা যায়। সবগুলো মন্ডপ আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে।
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা বিভাগেই খুব জাঁকজমকপূর্ণ পূজা হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু স্থানের মধ্যে বরিশাল, কুমিল্লা, সিলেট এবং ঢাকা নারায়ণগঞ্জের আশেপাশে খুব সুন্দর পূজা হয়ে থাকে। পূজোর আলোকসজ্জা গুলো দেখলেই বুঝা যায় যে কতটা জাকজমকপূর্ণ হচ্ছে সেখানকার পূজা গুলো। তেমনি কয়েকটা পূজার জায়গার কথা জেনে নেওয়া যাক।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার সবচেয়ে সুন্দর এবং বড় পূজা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হয়ে থাকে. এছাড়াও খামারবাড়ি ও বনানীতে দুটো বড় বড় পূজা হয়ে থাকে। এছাড়াও ঢাকার পূজার জন্য পুরান ঢাকার তাঁতি বাজার লক্ষ্মীবাজার খুবই বিখ্যাত। তাঁতিবাজার লক্ষ্মীবাজার একই সিরিয়ালে বেশ কয়েকটি দুর্গাপূজার মন্ডপ দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জের পূজা গুলো বেশ ভিন্ন হয়ে থাকে। সেখানে পূজা মন্ডপগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় নাটক উপস্থাপনা করা হয়। সন্ধ্যা থেকে শুরু করে সারা রাত পর্যন্ত সেই নাটকগুলি চলতে থাকে। ধর্মীয় কাহিনী নিয়ে মূলত এই নাটকগুলো করা হয়। প্রতি ১০ মিনিট পর পর একই নাটক বারবার রিপিট করা হয়ে থাকে। এছাড়াও পূজোর গেট গুলো থাকে বিভিন্ন ধরনের থিমের ওপর। মন্ডপের ভেতরগুলোতে অনেক ধরনের জিনিস দিয়ে সাজানো হয়। সেই সাজসজ্জায় নানান ধরনের ভিন্নধর্মী জিনিস ব্যবহার করা হয়।
বরিশালে দুর্গাউৎসবকে ঘিরে চারদিকে চলছে সজ্জা। ২০২২ এর তথ্য অনুযায়ী জেলা ও শহরে স্থায়ী-অস্থায়ী ভাবে সর্বমোট ৬০০ শত ৪৫টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। বাংলাদেশের বেশ অনেকের মুখে বরিশালের পূজা সম্পর্কে অনেক সুনাম শোনা যায়। মূলত বরিশালের বেশ কিছু পূজা রয়েছে বেশ বিখ্যাত এবং তাদের মূর্তিগুলো বেশ সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়। মূর্তি সাজানো শুরু করে মন্ডপের বিভিন্ন শ্বাস-সজ্জায় এবং আলোক শয্যায় ঘিরে ওঠে পূজোর পরিবেশ।
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পূজা কুমিল্লা ও চাঁদপুরের পূজা। স্থানীয় মানুষরা কখনোই পূজার সময় এই জায়গাটাকে ছাড়তে চায় না। কারণ এই জায়গায় পূজাতে এক ধরনের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। অষ্টমীতে ঢাকের তালে ষষ্ঠী পূজা, দশমীতে ধনুচি নাচ সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আমেজ তৈরি হয়।
পূজা শুধু পূজা নয়। পুজা বাঙালির ভালবাসা, বাঙালির আবেগ। পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই একটি পূজার জন্য একটি বছরের অপেক্ষা করতে হয়। এই পূজায় সব দুঃখ কষ্ট ভুলে সকলে আনন্দের সাথে মিলিত হয়। তাই পূজা যে যে স্থান থেকেই পালন করুক না কেন আনন্দ করাটাই মূল উদ্দেশ্য।