ক্রিকেট বিশ্বকাপ কি দর্শকদের মন ভোলাতে পারছে?

ক্রিকেট বিশ্বকাপ কি দর্শকের মন ভোলাতে পারছে? কেন যেন মনে হচ্ছে, এবারের আসর ঠিক যেন জমছে না। দেশীয় দর্শকের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ দল সুবিধা করতে না পারায় এমনটা মনে হতে পারে। নিজেদের দল প্রত্যাশা অনুসারে পারফরম্যান্স না করতে পারলে এরকম মনোভাব হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনুজ্জ্বল ও ম্লান লাগতেই পারে। 

দর্শক ও সমর্থকরা চান সাফল্যের আনন্দে উদ্ভাসিত হতে। তা না হলে পুরো আয়োজনকে ফিকে হিসেবে বিবেচনা করতেই পারেন। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি ক্রিকেটারদের জন্য যেমন প্রযোজ্য, তেমনিভাবে তাতে চালিত হতে পারে দর্শক ও সমর্থকরা। ভালো লাগা, মন্দ লাগাটাও মনের ওপর নির্ভরশীল। ক্রিকেট বিশ্বকাপ জমে না উঠার সেটাই মূল কারণ নয়। সামগ্রিকভাবে ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপে আগের মতো জৌলুস নেই। খেলার মাঠে দর্শক সমাগম আগের মতো হচ্ছে না।

অথচ ক্রিকেটে সবচেয়ে প্রত্যাশিত টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপকে। ভারতে ক্রিকেট খেলাকে অনেকটা উপাসনার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্রিকেটীয় উন্মাদনার এই দেশটিতে আয়োজিত এবারের আসরের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বড় বড় স্টেডিয়ামে। কিন্তু টুর্নামেন্টের জন্য নতুন করে সাজানো স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি তেমনভাবে উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। জাফরান-রঙের আসনগুলোর সারিগুলোকে কেমন প্রাণহীন লাগে। একমাত্র ব্যতিক্রম ভারতের খেলার দিন। স্বাগতিকদের খেলা থাকলে দৃশ্যত স্টেডিয়াম পরিণত হয় নীল সমুদ্রে। ভারত ছাড়া অন্য ম্যাচে বেশির ভাগ আসনই খালি থাকে। এমনকি স্বাগতিক দলের ম্যাচেও যে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, তা বলা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে ৫০ ওভারের ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার কারণে দর্শক সংখ্যা কমে যাচ্ছে মনে করা হচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলেও ওয়ানডে ফরম্যাটে দর্শকদের আকর্ষণ কমছে।

দর্শক সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি এবারের আসরে খেলাগুলো খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না। প্রায় প্রতিটি ম্যাচই একপেশে হচ্ছে। যে কারণে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের দেখা খুব একটা মিলছে না। দর্শকরা খেলার মাঠে চায় উত্তেজনার খোরাক। তেমন ম্যাচ না হলে দর্শকদের তা আর কতটা আকর্ষণ করতে পারবে? ওয়ানডে ফরম্যাটের ক্রিকেট বিশ্বকাপের মৃত্যুর ফিসফিসানি যখন শোনা যাচ্ছে, তখন এবারের আসর তা আরো উসকিয়ে দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।