রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পান শমসের মবিন চৌধুরী। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে ১২ অক্টোবর বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে তৃণমূল বিএনপি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে শমশের মবিন চৌধূরীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়।
তার জন্মভূমি সিলেটেও তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সিলেটে নতুন দলের দায়িত্ব কাকে দেবেন তা নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে জেলা বিএনপি তাকে ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষণাও করেছে। এসব ঘটনার মধ্যেই তিনি হঠাত নিজ এলাকা গোলাপগঞ্জে এসেছেন। রবিবার (২২ অক্টোবর) রাতে তিনি গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
সিলেটের গোলাপগঞ্জের সন্তান শমসের মবিন চৌধুরী এক সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তৃণমূল বিএনপি‘র চেয়ারপার্সন। বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে তিনি বিকল্পধারায়ও যোগ দিয়েছিলেন। বিএনপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করার ঘটনায় গত ১৬ অক্টোবর গোলাপগঞ্জ বিএনপি নেতাকর্মীরা শমসের মবিন চৌধুরীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। এই অবাঞ্ছিত ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজ এলাকায় এসেছেন শমসের মবিন চৌধুরী। গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ এলাকার শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির, ভাদেশ্বর খমিয়াপাতন পূজামণ্ডপসহ বিয়ানীবাজারের কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন তিনি। এ সময় সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল বিএনপির সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক এম এ হান্নান, গোলাপগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক সানাউল হক। এদিকে শমসের মবিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ২১ অক্টোবর সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি শমসের মবিনকে ‘দলছুট’, ‘বিশ্বাসঘাতক’, ’নীতিহীন’ ও ’পথভ্রষ্ট’ আখ্যা দেন।
বিগত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকা ও সদর উপজেলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল শমসের মবিন চৌধুরীর। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে এখানে বিএনপির প্রার্থী করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে দেখা দেয় মতবিরোধ। হতাশ হয়ে পড়েন শমসের মবিন চৌধুরী ও তাঁর অনুসারীরা। ২০১৫ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে যোগ দেন বিকল্পধারায়। সেখান থেকে যান তৃণমূল বিএনপিতে।