সিলেটে গাড়ি ভাঙচুর, হার্ডলাইনে পুলিশ

সিলেট নগরীতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠে নগরী। বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিককেপ, গাছ ফেলে অবরোধ, টায়ারে আগুন, পুলিশের টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ সব মিলিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পিকেটিংয়ের কারণে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক একেবারেই গাড়িশূন্য হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে পরিবহন শ্রমিকরাও সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। এখনও পর্যন্ত সিলেট ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার বাস।

সকাল ১০ টার দিকে জিন্দাবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নেতাকর্মীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ও তাদের দিকে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ও সাউন্ড গ্রেনেডও ফাটায়। নগরের জেলরোড পয়েন্টে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে  সকাল সোয়া নয়টার দিকে।

ছবি: ফোকাস বাংলা

এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কোহিনূর আহমদ ও সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলমের নেতৃত্বে দক্ষিণ সুরমায় সড়কে গাছ ফেলে, টায়ারে আগুন দিয়ে রোববার সকাল ১০টার দিকে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। একই সময় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার তেতলিতে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ছবি: ইত্তেফাক

সকাল নয়টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে গাড়ি ভাঙচুর করা হয় নগরীর লন্ডন রোডের কাছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ১০-১২টি গাড়ি ভাঙচুর  হয়।

ছবি: ইত্তেফাক

মহাজনপট্টির গলি থেকে ২৫-৩০ জন বিএনপি নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে জেল রোড পয়েন্টে এলে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের দিকে ইট-পাটকের নিক্ষেপ করেন নেতাকর্মীরা।

জিন্দাবাজার পয়েন্ট ও কাজি ইলিয়াস এলাকায় সড়কে সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁতিপাড়ার গলি থেকে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী হঠাৎ বের হয়ে পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তবে পুলিশের ধাওয়ায় তারা দাঁড়াতে পারেনি। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

বিএনপির পিকেটারদের মোটরসাইকেল শোডাউন। ছবি: ইত্তেফাক

সকাল ১০টার দিকে দরগাহ গেটে রিকশায় আগুন, সাংবাদিকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। মহানগরের দরগাহ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগ নেতার যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর
সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতার যাত্রীবাহী একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। বাসটি দক্ষিণ সুরমা টার্মিনাল থেকে জাফলংয়ের দিকে যাওয়ার পথে হুমায়ূন রশিদ চত্বরে পিকেটিংয়ের শিকার হয়।

ছবি: ফোকাস বাংলা

এ সময় ইট-পাটকেল ছুঁড়ে গাড়িটি ভাঙচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ। জাকারিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার মালিকানাধীন বাস ‘আল মাহমুদ পরিবহন’ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জাফলং যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে  হুমায়ূন রশিদ চত্বরে আসার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা গাড়িটি ভাঙচুর করেন। পরে বাসটি সোবহানী ঘাটস্থ পেট্রোল পাম্পের সামনে এনে রাখা হয়।

সিলেট নগরীতে বিএনপির নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক পুলিশ। ছবি: ইত্তেফাক

মাঠে হার্ডলাইনে পুলিশ
হরতালকে কেন্দ্র করে সিলেটে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য রোববার ভোর থেকে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ সকল রাস্তা এবং মোড়ে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মহানগরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও মোড়ে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে তারা প্রস্তুত। সিলেটে ভোর থেকে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ টিম ‘ক্রাইসিস রেন্সপন্স টিম (সিআরটি)’ রয়েছে মাঠে। সাদা পোশাকেও পুলিশ বাহিনী মাঠে রয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াস শরীফ বিপিএম (বার) পিপিএম বলেন, ‌‘সিলেটের জনগণের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা মাঠে রয়েছি। হরতালকে কেন্দ্র করে কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে কঠোরভাবে তা দমন করা হবে। ভোর থেকে ভ্রাম্যমান দল, সিআরটি ও সাদা পোশাকে একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান পিসিআর।