উদ্যোক্তাদের আঁতুড়ঘর টি হাব

উদ্যোগ কথাটির মধ্যে ইচ্ছের প্রকাশ আছে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উদ্যোক্তার উদ্যোগের সঙ্গে স্বাভাবিক উদ্যোগের ফারাক আছে। পরিকল্পনা বা উদ্যোগের প্রয়াসের সামনে রয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। অথচ উদ্যোগ সফল হলে আর পিছে তাকানোর সুযোগ নেই। আঁতুড়ঘর থেকে বের হয়ে হাঁটা আর শেষে পরিণত হওয়ার যাত্রাটি সহজ নয়। আজকাল প্রযুক্তির সাহায্যে অসংখ্য উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অসংলগ্ন ব্যবহার। যে ব্যবহারই হোক, প্রযুক্তি অসংখ্য সম্ভাবনাকে ছোঁয়ার সুযোগ দেয়। সে সুযোগ আঁকড়ে ধরার জন্য প্রয়োজন উৎসাহ? না। প্রয়োজন আইডিয়াকে পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো প্রতিষ্ঠান। এই পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকাই নিচ্ছে ভারতের টি হাব। 

প্রযুক্তির অন্যতম বড় প্রাণকেন্দ্র ভারতের হায়দরাবাদ। স্বল্প সময়ে অঞ্চলটির রূপ বদলে দিয়েছে প্রযুক্তি উদ্যোগের মাধ্যমে। এখন হায়দরাবাদে প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে রয়েছে প্রতিষ্ঠান৷ তাদেরই একটি টি হাব ও টি ওয়ার্ক। প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উদ্যোক্তাদের উৎসাহ নয় পৃষ্ঠপোষকতার কাজটিই করবে। টি হাব অনেকটা ইনস্টিটিউটের মতো। ইনস্টিটিউটের কাজ রূপান্তর করা। কাগুজে ধারণা বা প্রাথমিক মেথডকে বাস্তবে ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে রূপ দেওয়া। টি হাব সেভাবেই কাগুজে ধারণাকে রূপ দিচ্ছে ডিজিটালে। উদ্যোগ বেসরকারি হলেও ভারত সরকার এই প্রতিষ্ঠান দুয়ের মধ্যে সেই সম্ভাবনা শনাক্ত করেছে। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে।
 
দুই ভবন পাশাপাশিই। সরকারি খরচে বানানো নান্দনিক ভবন দুটোই নজর কাড়ে। তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদের এই দুই ভবন এখন টেক স্টার্ট আপের ক্যাম্পাস। টেক স্টার্ট আপকে সহযোগীতা করার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত। তরুণদের চিন্তা আর গন্ডিবদ্ধ না থাকায় এই প্রতিষ্ঠান দুয়ের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে তাদের৷ টি হাবও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দিচ্ছে তরুণদের। সম্প্রতি মহাকাশ অভিযানের জন্য রকেট প্রস্তুতের সময় হঠাৎ একটি যন্ত্রাংশের সমস্যা দেখা দেয়। আকাশযাত্রার ঠিক এক সপ্তাহ আগে যন্ত্র বিকল হওয়ায় চিন্তায় পড়ে যায় ইসরো। তাদের বিজ্ঞানীরা শরণাপন্ন হন টি-ওয়ার্কসের। দুই প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় সেই যন্ত্রাংশ সফলভাবে বানায় টি-ওয়ার্কস। এগুলোই তাদের সাহস জোগায়। প্রযুক্তিতে পরদেশ নির্ভরতা নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিতে কীভাবে বিদেশেও রপ্তানি করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করছে ভারত।

সম্প্রতি টি ওয়ার্কসে বাংলাদেশের সাংবাদিক দল পরিদর্শনে গিয়েছিল। তখন টি ওয়ার্কসের ডিরেক্টর বীরা বাপ্পি জানান, 'দেশে অনেক স্বপ্নবাজ নির্মাতা ও উদ্ভাবক আছেন যারা ব্যর্থতাকে ভয় পান না। তাদের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ২০১৭ সালে টি-ওয়ার্কস গড়ে তোলে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার। টি-হাবের পাশে নতুন এ ভবন উদ্বোধন হয় এই বছরের মার্চে। ভবনটি আমরা এমনভাবে তৈরি করিয়েছে যাতে তা ইকো ফ্রেন্ডলি হয়। দিনের বেলা বিদ্যুৎ বেশি লাগে না। প্রচুর আলো-বাতাস ভবনে ঢোকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইকোসিস্টেমকে সর্বোচ্চ কাজে লাগায়।'

তিনি উদ্যোক্তাদের বিষয়ে বলেন, 'কারো কোনো উদ্যোগ মাথায় এলে তারা প্রথমে অবকাঠামো খোজে। আমাদের আইডিয়া শেয়ার করে যেন আমরা তা দিতে পারি। এখানে অত্যাধুনিক মেশিন রয়েছে। তাই তাদের আমরা সহযোগীতা দিতে পারি। টি হাবে আমরা উদ্যোক্তাদের ৯৫ শতাংশ পর্যন্তও সহযোগীতা দিয়ে থাকি। আর্থিক হোক বা মেশিনারি সাহায্য। আমরা তা দিয়ে থাকি।'

চীনকেও টেক্কা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা টি হাবের রয়েছে। সে পথও সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। হয়ে উঠছে উদ্যোক্তাদের আঁতুড়ঘর। উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবে রূপ পাওয়া কঠিন কিছুই নয়, সেটাই টি হাব প্রমাণ করছে।