বাঘায় পুলিশ সার্জেন্টের প্রাইভেটকারে আগুন ও ট্রাক ভাঙচুর 

বাঘায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে জামায়াত-বিএনপি। তারপরেও চলছে বিভিন্ন ধরনের যানবহন। রোববার (২৯ অক্টোবর) বাঘায় পৃথক দুটি অতর্কিত হামলায় একটি প্রাইভেটকার পুড়িয়ে দেওয়া ও একটি ট্রাক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

জানা গেছে, সকাল ১১টার সময় রাজশাহী (আরএমপি) পুলিশ সার্জেন্ট শহিদুজ্জামান (রিপন) নিজে একটি প্রাইভেটকার চালিয়ে বাঘায় তার স্ত্রীর বড় বোনকে রাখতে আসছিলেন। পথিমধ্যে তিনি বাঘার মনিগ্রাম ইউনিয়নের আটঘরি নামক একটি ফাঁকা রাস্তায় পৌঁছালে জামায়াত-বিএনপির হরতালকারীরা তার পথরোধ করে গাড়িতে পেট্টোল মেরে আগুন জালিয়ে দেয়। এ সময় তিনি এবং তার স্ত্রীর বড় বোন গাড়ি থেকে নেমে দৌড় দিয়ে পালিয়ে নিজেদের আত্মরক্ষা করেন। খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গাড়িটির আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। 

এর আগে উপজেলার চকছাতারী এলাকায় ফজরের নামাজ শেষে কয়েকজন জামায়াত কর্মী বাঘা থেকে রাজশাহী গ্রামী একটি চলন্ত ট্রাকে ইট-পাটকেল ছুড়ে ট্রাকের গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় চতুর ড্রাইভার গাড়িটি না থামিয়ে দ্রুত সেখান থেকে টান দিয়ে রাজশাহী অভিমুখে চলে যান। অতঃপর জামায়াত কর্মীরা কাটের গুল দিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেগুলো সরিয়ে দেয়।

এদিকে ঘটনার আধা ঘণ্টা পর পুলিশ সার্জেন্ট শহিদুজ্জামান (রিপন) দুর্ঘটনার স্থানে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার, চারঘাট সার্কেলের এএসপি প্রণব কুমার সাহা এবং বাঘা থানা পুলিশ আসার খবর পেয়ে তিনি সেখানে আসেন এবং প্রশাসনকে জানান, হরতালকারীরা তার পথরোধ করে প্রথমে গাড়িটি ভাঙচুর শুরু করে। এরপর পেট্টোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তখন তিনি ভয়ে-আতঙ্কে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় অগ্নিসংযোগকারীরাও রাস্তার উত্তর পাশের আম বাগান দিয়ে দ্রুত শটকে পড়েন। 

বাঘা থানার ওসি তদন্ত সবুজ রানা জানান, আমরা সংবাদ পাওয়া মাত্র ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে ঘটনা স্থলে যায়। প্রতিবেশী লোকজন জানিয়েছেন, তারা গাড়ির সিলিন্ডার বাস্ট হওয়ার বিকট শব্দ পেয়ে ঘটনা অবগত হয়েছেন। ততক্ষণে হরতালকারীরা পালিয়ে যায়।