বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থান প্লাবিত

ফুলবাড়িয়ায় বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

ইত্তেফাক ডেস্ক

গত কয়েকদিনেরর টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর—

নেত্রকোনা : জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ মহাসড়কের ইন্দ্রপুর এলাকায় সদ্য নির্মিত ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়কের দুই পাশের মাটি সরে বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি যদি ভেঙে যায় তাহলে এলাকার শত শত মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গত শুক্রবার রাত পর্যন্ত সেতু সংলগ্ন সড়ক মেরামতের কাজ চলে এবং সড়কটি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা হয়। অপরদিকে, কলমাকান্দায় পাহাড়ি ঢলের তোড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ধসে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি বৃদ্ধি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) : শনিবার দুপুর থেকে ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে এ দুটি নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্ল­াবিত হয়েছে। উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজী গ্রামের পাঁচটি পরিবারের বসতবাড়ি ধরলার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। ধরলার তীরবর্তী শতাধিক পরিবার ধরলার তীব্র ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন। সোনাইকাজী গ্রামের ধরলার ভাঙনের শিকার ফরিদা বেগম (৫০), মিজানুর রহমান (৫৫), শাহাদোত্ মিয়া (৫৭), হাসেন আলী (৫২) ও হোসেন আলী (৭৫) জানান, গত দুই দিনে আমাদের বাড়ি-ঘর ধরলার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। আমরা কোনো রকমেই ধরলার তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করে আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের খোঁজ খবর নিতে কেউকে আসলো না বাহে ! গত তিন বছরে ৮ থেকে ১০ বার ঘরবাড়ি ধরলায় কেড়ে নিল। ধরলার তীরবর্তী অনেক পরিবার আগাম ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। নিকটবর্তী আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় অনেকে ধরলার তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুমা আরেফিন জানান, নদীর পানি বৃদ্ধিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার সব ধরনের প্রস্তুতি হাতে নেওয়া হয়েছে। ভাঙন এলাকাগুলো পরিদর্শনের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ধরলার তীরবর্তী এলাকার লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা এবং ধরলার ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ): উপজেলার যাদুকাটাসহ অন্যান্য নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গতকাল পর্যন্ত যাদুকাটা ও সুরমাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উপজেলার বাগলী থেকে চাঁনপুর ও তাহিরপুর সদর থেকে সুনামগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাহিরপুরের বৌলাই নদীর স্রোতের তোড়ে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন বালিজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণকুল গ্রামের রোজিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহিণী।

আনোয়াপুর ব্রিজের অ্যাপ্রোচের পূর্বাংশের রাস্তাটি পানির স্রোতে কয়েক স্থানে ভেঙে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শনিবার পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার সংবাদ পাওয়া গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে বালুপাথর উত্তোলনকারী প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে । অপরদিকে উপজেলার চাঁনপুর, বড়ছড়া, লাকমা, চারাগাঁও, কলাগাঁও, লামাকাটা ও বাগলীছড়া দিয়ে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল এসে ছড়ার তীরবর্তী শতাধিক ঘরবাড়ি ধসে গেছে। উপজেলার ৩০টিরও বেশি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে ।

এছাড়া উপজেলার উজান এলাকার আমন ধানের প্রায় দুইশ একর জমির বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেত পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, নিম্নাঞ্চলের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সীমান্ত রাস্তা বড়ছড়া হতে বীরেন্দ্রনগর পর্যন্ত স্থলপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া ৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।