পাবনায় ‘বেলাল’ নামে পরিচিত বাইডেনের কথিত উপদেষ্টা মিয়া আরেফি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে আটক মিয়া জাহিদুল ইসলাম ওরফে মিয়া আরেফির পাবনায় পুরোনো একতলা একটি বাড়ি আছে। সেখানে একজন ভাড়াটে থাকেন। এছাড়া আর কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। বাড়ির আশপাশের মানুষ তাকে চেনেন ‘বেলাল’ নামে।
 
মিয়া আরেফির বাবা একসময় পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে পাবনা জেলা সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর মহল্লার শায়েস্তা খাঁ সড়কে জমি কিনে বাড়ি করেন। একসময় তারা পরিবার নিয়ে এই বাড়িতেই থাকতেন। ৩০-৩৫ বছর আগে সপরিবারে আমেরিকা চলে যান। তবে মাঝেমধ্যে এই বাড়িতে আসতেন মিয়া আরেফি। এই বাড়িতে একজন ভাড়াটে থাকেন। তার নাম মো. রইচ উদ্দিন। তিনিই বাড়িটি দেখভাল করেন।
 
মহল্লার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়া আরেফি ওরফে বেলালরা ১০ ভাইবোন। তাদের পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার মানিকদিয়ার গ্রামে। 
 
মিয়া আরেফির বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রইচ উদ্দিন জানান, পাবনায় স্থায়ী হতে চেয়েছিলেন বেলাল সাহেব। গত ৩-৪ মাস আগে দুই দফা পাবনার বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। 
 
বাড়ির প্রতিবেশী ইয়াছিন আলী মৃধা বলেন, ১৯৭৫ সালে পাবনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন বেলাল। অতিরিক্ত কথা বলতেন তিনি। এজন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। 
 
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দেওয়ার পর মিয়া আরেফির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। শুধু একটি বাড়ির সন্ধান ছাড়া পাবনার সঙ্গে তার তেমন কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। 
 
উল্লেখ্য, রাজধানীতে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের পর গত শনিবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক রহস্যময় ব্যক্তিকে দেখা যায়। মিয়া আরেফি নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। পরদিন রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।