বিশ্বকাপে দলের যাচ্ছেতাই অবস্থা। কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াবার পথ খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বড় স্বপ্ন নিয়ে আসর শুরুর পর ছয় ম্যাচের মধ্যে প্রথম খেলা বাদে টানা পাঁচ ম্যাচে হেরে আত্মবিশ্বাসের তলানিতে অবস্থান করছেন টাইগাররা। এর মধ্যে সব শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হেরে আসরের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নও শেষ হয়েছে লাল-সবুজদের। সেই হারের পর ক্রিকেটারদের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে, এমন ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
পরে সংবাদ সম্মেলনেও টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এককথায় স্বীকার করে নিয়েছিলেন দলের এটাই স্মরণকালের বাজে পারফরম্যান্স। হাসির ছিটেফোঁটাও ছিল না তার মুখে। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সোমবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনেই তাকে দেখা গেল খোশ মেজাজে। হেসে হেসে দিচ্ছেন সব প্রশ্নের জবাব। এদিন প্রায় ১৪ মিনিট চলা এই প্রশ্ন-উত্তর পর্ব তিনি খুশি থেকেই কাটিয়ে দিয়েছেন। শেষে রুম ছাড়ার আগে বললেন ‘মাঝেমধ্যে হাসিরও দরকার আছে’।
ভারতে সময়টা ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। প্রতি ম্যাচেই ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারছেন না টাইগাররা। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর টানা পাঁচ ম্যাচ হেরেছেন। শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হেরে প্রবল সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক, সমর্থক প্রত্যেকে তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মনোবল মাঠে ধরা রাখা তাদের জন্য যে বেশ কঠিন, তা ধারণা করাই যায়। তবে পরিস্থিতি বদলে মাঠে ভালো কিছু করার চেষ্টায় রয়েছেন লাল-সবুজরা।
এমনটাই জানিয়ে দিলেন অধিনায়ক বলেন, ‘আমরাই কেবল পারি দলের পরিস্থিতি বদলে দিতে নিজেদের অ্যাকশন দিয়ে। এটাই করার চেষ্টায় আছি আমি।’ ভিন্ন এক প্রশ্নে সবশেষ হারের পর পরিস্থিতি সহনশীল করতে কী করেছেন, জানান অধিনায়ক। বলেন, ‘আসলে মন খারাপ করে থাকলে তো চলবে না, সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সবাই সেটা করার চেষ্টা করেছে। আমরা একসঙ্গে বসে আলাপ করেছি, ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করেছি। যেভাবে করা সম্ভব, যেটা করলে আমাদের মনে হয়েছে হয়তো ভালো কিছু হতে পারে। সেগুলো আমরা করার চেষ্টা করেছি। আমাদের সেটা মাঠে প্রমাণ করতে হবে। পারফর্ম করতে না পারলে সব কিছুই মূল্যহীন। এজন্য আমাদেরকে মাঠে পারফর্ম করে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। যেন প্রত্যেকে তা দেখতে পারেন।’
এদিকে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলেও গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে খেলতে পারবে না টাইগাররা। কেননা গত জানা গিয়েছে ২০২৫ এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সুযোগ পাবে আয়োজক পাকিস্তান এবং এই ওডিআই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষে প্রথম সাতে থাকা ৭টি দল। আপাতত ৬ ম্যাচে খেলে মাত্র ১টিতে জিতে বাংলাদেশ রয়েছে ৯ নম্বরে। সেখান থেকে প্রথম সাতে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে হলে বাকি ৩টি ম্যাচ জিততে হবে।
সাকিবও এদিন বাবার পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন পরবর্তী তিন ম্যাচে ছয় ছাড়া আর কোনো পথ নেই তাদের সামনে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কালকের (মঙ্গলবারের) ম্যাচটা জিততে চাই। বাকি থাকা ৩টে ম্যাচ জিতলে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দৌড়ে টিকে থাকব। কোনও দলকে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রেটিং করতে চাই না। আমরাই দলের পরিস্থিতি ঠিক করতে পারি। দলের ক্রিকেটাররা নিজেরাই নিজেদের ফর্মে ফেরাতে পারে। দলের সকলে সবাইকে মোটিভেট করছে। এটা দলগত খেলা ঠিকই, কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে ক্রিকেটাররা ফর্মে ফিরলেই সাফল্য আসবে।’
এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতে যাওয়ার আগ থেকেই চলছে বিতর্ক। স্কোয়াডে রাখা হয়নি দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। সবাই এ বিষয়ে আঙ্গুল তুলেছে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দিকে। এরপর বিশ্বকাপেও ব্যাট হাতে রান পাচ্ছেন না অধিনায়ক। যেখানে গত আসরে তিনি ৯ ম্যাচে ৬০৬ রান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। সেই সাকিবই এবার ৫ ম্যাচ খেলে করেছেন স্রেফ ৬১ রান। দর্শকদের প্রত্যাশা ভালো করবেন সাকিব। এ নিয়ে প্রশ্ন যেতেই বাংলাদেশ অধিনায়ক উত্তরে বলেন, ‘আমিও পারফর্ম করতে চাই। ’ এরপর সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্ন ছিল কীভাবে? এবার উত্তরে সাকিব বলেন, ‘আমিও ওই পথটা খোঁজার চেষ্টাই করছি।’
এই সংবাদ সম্মেলনে শেষ প্রশ্নটি ছিলো এরকম, ‘পাকিস্তান দলের অবস্থাও অনেকটা বাংলাদেশের মতো, টানা চার ম্যাচ হেরেছে, ব্যাডপ্যাচ আছে, সেটা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুবিধা বা প্রেরণা হতে পারে কি না।” প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই সাকিব হাসতে হাসতে বলেন, ‘একই কথা তো ওরাও বলতে পারে যে বাংলাদেশ টানা পাঁচটি ম্যাচে হেরেছে, এটা ওদের বাড়তি সুবিধা নাকি... কি বলবো বলেন।’