পিরোজপুর অফিস
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে উপবৃত্তিধারী শিক্ষার্থীদের নামে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় পিরোজপুরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন। গত কয়েকদিনে সদর উপজেলার দুটি মাদ্রাসা ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানগণ এ ধরনের দুর্নীতি করেছেন বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানগণের এমপিও বাতিল ও ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানগণের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে তারা হলো চালনা নামাজপুর নেছারিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মালেক, নামাজপুর সাকিনা হামিদ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলী আকছার ও দাউদপুর পল্লীমিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মো. মজিবুর রহমান।
গত ২৪ জুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম জাহিদ হোসেন দাউদপুর থেকে কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. সাজেদুল হক সাজ্জাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে অভিযোগ পেয়ে পল্লীমিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিকাশ খোলার কার্যক্রম দেখতে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে শতাধিক অভিভাবকের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে হিসাব খোলা বাবদ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তখন তিনি তাত্ক্ষণিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা কার্যক্রম স্থগিত রাখেন এবং একইভাবে গত ১৯ জুন ও ২০ জুন চালনা নামাজপুর নেছারিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিকাশ হিসাব খোলার তারিখে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর বিকাশ কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর ঘটনাটি এসইডিপির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের কাছে লিখিতভাবে জানিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান আব্দুল মালেক হাওলাদারের এমপিও বাতিলসহ ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এসইডিপি থেকে পত্র দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে সাকিনা হামিদ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও।
এদিকে দাউদপুর পল্লীমিলন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মজিবুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, শিক্ষার্থীদের কাছে টিউশন ফি, পরীক্ষার ফি, সেশন চার্জসহ বকেয়া পাওনা আদায়ের বিষয় অভিভাবকরা ক্ষেপে গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
এছাড়া সাকিনা হামিদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলী আকছার ও চালনা-নামাজপুর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারাও অভিভাবক বা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলা বাবদ কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ বি এম জাহিদ হোসেন বলেন, অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই করেই সিইডিপিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে পত্র দেওয়া হয়েছে।