বিরাট কোহলিরা সেমিফাইনাল জিতবে, ফাইনাল জিতবে কীভাবে সেই অপেক্ষায় রয়েছে। আর অন্যদিকে বিশ্বকাপের একই মঞ্চ থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার অপেক্ষায় সাকিব আল হাসানরা। অথচ এই সাকিবদের নিয়ে দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তরা স্বপ্ন দেখেছিল।
দেশের ক্রিকেটভক্তরা এখন দেখেন বিরাট কোহলিরা কীভাবে খেলে যাচ্ছেন। সাকিবদের নিয়ে টিকটক হচ্ছে। কৌতুক করছেন। আর কোহলিদের নিয়ে তার দেশ মাথার মুকুট বানাচ্ছে। কোহলি সেঞ্চুরি করলে শচীন টেন্ডুলকারকে ছুঁয়ে ফেলতেন। মুম্বাইয়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলি নামার আগে সবার চাওয়াটা ছিল এমন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে কোহলির সেঞ্চুরিটা দেখা চাই।
ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, কারণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করতে পারলে তার নামের পাশে লেখা হতো ৪৯ সেঞ্চুরি। ৪৮ সেঞ্চুরি করেছেন কিং কোহলি। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হয়ে গেলে শচীনের পাশে বসতেন কোহলি। খেলা শুরু হওয়ার আগে ট্রফি নিয়ে মাঠে রাখেন শচীন টেন্ডুলকার। পরে তিনি তার পরিবার নিয়ে ভিভিআইপি বক্সে গিয়ে বসেন।
ধারাভাষ্যকারদের রুমে আলোচনা হচ্ছিল বিরাট যদি সেঞ্চুরি করে তাহলে শচীন কি করবেন আজকে। শচীন কীভাবে কোহলিকে অভিনন্দন জানাবেন তা নিয়ে দুষ্টমির ছলে নানা কথা। কোহলির দুর্ভাগ্য। সেঞ্চুরির পথে গিয়েও যেন তীরে এসে তরী ডুবল। কোহলি ৯৪ বলে ৮৮ রান করলেন। ১২ রান যোগ হলে সেঞ্চুরি হতো, শচীনকে স্পর্শ করতে পারতেন। দিলশানের বলে আউট হন। বলটা ব্যাটের এমন এক জায়গায় গিয়ে লাগল তা দেখে কোহলির শত্রুরাও আফসোস করল। এটা কোনো আউট হলো।
বিরাট যেন একেবারে সহজ ক্যাচ তুলে দিলেন পাথুম নিশাঙ্কার হাতে। এতো খুশি আর কাউকে দেখা যায় না। বল করলেন দিলশান, ক্যাচ নিলেন পাথুম। সেঞ্চুরি করতে দিলেন না। কোহলিকে ভেঙে দিলেন। কোহলি নিজেও অবাক হয়েছেন। কী করলেন। স্লো বলটা কীভাবে ব্যাট ছোয়ালেন নিজেই অবাক হয়ে যান। ক্রিজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মাথাটা নিচের দিকে আফসস করছিলেন কোহলি।
তবুও দর্শক হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন কোহলিকে। ব্যাটটা বোগলদাবা করে কোহলি ফিরছিলেন ড্রেসিং রুমে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ফেন্সিংয়ের বাইরে থেকে দর্শক কোহলির ছবি তুলছিলেন। সেঞ্চুরি না পেলেও অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। সেদিকে নজর নেই। মাথা নিচু করে ড্রেসিংরুমের দিকে আগালেন। ভারতের ক্রিকেটে যখন সুনীল গাভাস্করের দাপট তখন নাকি সেখানকার কোচরা সুনীলকে দেখে শিখতে বলতেন।
সুনীলদের পর যখন ক্রিকেটের দাপট শচীন টেন্ডুলকারের তখন কোচরা বলতেন মুম্বাইকরের খেলা উপভোগ করো। আর এখন কোচরা বলেন, বিরাট কোহলির খেলা দেখ আর শুধু হাততালি দাও, কারণ সবার খেলা অনুকরণ করা গেলেও অন্য গ্রহের মানুষের খেলা কখনো অনুকরণ করা যায় না। তবে কি বিরাটই ভারতের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার? একদিনের ক্রিকেটে মাস্টার ব্লাস্টারে ৪৯তম শতরানে এখনো তিনি ভাগ বসাতে পারেননি। তবে কোহলি যেভাবে উড়ছেন, তাতে তিনি যে এই রেকর্ড গড়ে ফেলবেন তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। কিংবা সময়ের অপেক্ষা। তা হলে কি শুধু সংখ্যার বিচারে বিরাটকেই কি সর্বকালের সেরা ব্যাটার বলা যায়?
এসব কথা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শেষ হবে না। এই মুহূর্তে বলতে হয় বিশ্বকাপে একটা দলকে কীভাবে এগিয়ে নিতে হয় কোহলিরা পথ দেখাচ্ছেন। একদিকে বিজ্ঞাপন করা, ব্যবসা করা, বলিউড নায়িকাকে বিয়ে করে সংসার সন্তান নিয়ে জীবন উপভোগ করছেন। আবার খেলাটাও ঠিক রাখছেন। বিরাট কোহলি এবারের বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ৪৪২ রান করেছেন। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে ৯৫ রান করেছেন। তার আগের ম্যাচে ১০৩ রান করেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানের পর গতকাল ৮৮ রান করে দেখিয়েছেন কেন তাকে কিং কোহলি বলা হয়।
কাঁকড়া ব্যবসা থেকে শুরু করে স্বর্ণ ব্যবসা, শেয়ার মার্কেটসহ বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সাকিব খেলাটা নিয়ে কি সিরিয়াস ছিলেন? বিশ্বকাপে এবার ভারতের বিপক্ষে খেলা হয়নি সাকিবের। বাকি ৬ ম্যাচে সাকিবের রান ১০৪, (১৪, ১, ৪০, ১, ৫, ৪৩)। ৬ ম্যাচে ‘সেঞ্চুরি’ করেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাজহার তান্না ইত্তেফাককে বলেছিলেন বিরাট কোহলি সবই করছেন। খেলাটাও করছেন। সাকিব সাহেবরা কি করছেন? কোহলিদের দেখেও কি সাকিবরা শেখেন না।