এক ম্যাচে দুই দলের দুই লক্ষ্য

চলতি বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে স্বাগতিক ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলে ৪ জয় এবং ২ হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৩ নম্বরে অবস্থান করছে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নরা। তাদের বর্তমান লক্ষ্য লড়াই করে কোনোমতে সেমির টিকিট কাটা।

অন্যদিকে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে গত আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল ইংল্যান্ড। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে মাত্র ১ ম্যাচে জয়ে নিয়ে টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে ইংলিশরা। এতে করে সেমিফাইনালের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে গিয়েছে তারা।

যদিও কাগজে-কলমে কঠিন অঙ্ক কষে এখনো সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। তবে বর্তমানে ইংল্যান্ডের লড়াই সেমির নয়, তাদের লড়াই ২০২৫ সালে পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের জায়গা দখলের। আর সেটা নিশ্চিত করতে হলে ফিরতে হবে জয়ে। আসতে হবে পয়েন্ট টেবিলের অষ্টম স্থানের মধ্যে। আজ ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যের দুই দলের এই ম্যাচটি আজ অনুষ্ঠিত হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ এটি, বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে।

ক্রিকেটের সব থেকে বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম বলা হয় আহমেদাবাদের এই স্টেডিয়ামটিকে। চলমান আসরে এখন পর্যন্ত এই মাঠে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মধ্যে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচও এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। যেটিতে মুখোমুখি হয় গত আসরে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দল। সেই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি ইংলিশরা। হারে ৯ উইকেটের ব্যবধানে।

সেই যে আসর হার দিয়ে শুরু করে এরপর হারের ওপরই রয়েছে, মাঝে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ধর্মশালায় বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল তারা, সেই একটি এখন পর্যন্ত তাদের সাফল্য বলা যায়। এছাড়া এই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল আসরের সব থেকে হাইভোল্টেজ ম্যাচ। যেটিতে মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্বাগতিক ভারত ও পাকিস্তান। সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দাপট দেখিয়েই ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক ভারত। আসরের পরিসংখ্যান হিসেবে এই মাঠে পরে ব্যাট করা দলই জিতেছে অনুষ্ঠিত হওয়া দুই ম্যাচে। তাই আজকের খেলায়ও টস ভাগ্যটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে জয় পেতে।

এদিকে একদিনের ক্রিকেটে মুখোমুখিতে ইংল্যান্ডের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত ১৫৫ ম্যাচে মুখোমুখি হয় এই দুই দল। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ৮৭ জয়ের বিপরীতে ইংল্যান্ডের জয় ৬৩টি। বাটি দুটি ম্যাচ ড্র এবং ৩টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। এছাড়া একদিনের বিশ্বকাপে ৯ বার দেখা হয় এই দুদলের। বিশ্বকাপেও পরিসংখ্যান কথা বলছে অজিদের পক্ষে। অস্ট্রেলিয়া ৬ জয়ের বিপরীতে ইংল্যান্ডের জয় ৩টি।

সবশেষ বিশ্বকাপেও দুইবার মুখোমুখি হয় এই দুই দল। যার মধ্যে প্রথম পর্বের ম্যাচে ৬৪ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। তবে সেমিফাইনালে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ইংলিশরা। বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হওয়া ঐ ম্যাচে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় তারা। অন্যদিকে সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বারে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয় দুদল। নিজেদের ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করে অস্ট্রেলিয়া। সম্প্রতি পারফর্ম বিবেচনায়ও এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়াই তবে ইংল্যান্ডেরও দেওয়ালে পিঠ ঠেকে রয়েছে। তাই বলা যায় টান টান উত্তেজনা ছড়াতে পারে এই ম্যাচটি।