দেশে হালকা প্রকৌশল শিল্প যুগ যুগ ধরে বড়ো পুঁজি ও কোনো ধরনের বিশেষায়িত প্রযুক্তিজ্ঞান ছাড়াই গড়ে উঠেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষম হয়ে গড়ে উঠতে হলে মানসম্পন্ন প্রকৌশল পণ্য তৈরি করতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানেরও প্রয়োজন। এজন্য সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। ‘এসডিজি অর্জনে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণের গুরুত্ব’ শীর্ষক ঐ সেমিনারের আয়োজন করে যৌথভাবে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে এতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
উদ্যোক্তারা এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সরকারের কাছে সহযোগিতা চান। এ সময় জানানো হয়, দেশে হালকা প্রকৌশল শিল্পখাতে ৫০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোগ রয়েছে। এর বাইরে ছোটো ও মাঝারি উদ্যোক্তা মিলিয়ে আরো ১০ হাজার উদ্যোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এ খাতের জিডিপিতে অবদান প্রায় তিন শতাংশ। রপ্তানিও বাড়ছে ৩০ শতাংশ হারে। বিশ্ববাজারে হালকা প্রকৌশল শিল্পের বাজার মূল্য প্রায় ছয় লাখ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ বিশাল বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খুবই কম। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ খাতের জন্য সহজশর্তে, স্বল্প সুদে পুঁজি দরকার। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ছাড়া তা সম্ভব নয়। এছাড়া প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সরকারের নীতি সহায়তা দরকার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইউসেপ বাংলাদেশের পরিচালক হাবিবুর রহমান এ খাতের সমস্যা সমাধানে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরেছেন। এ খাতের শিল্পে ব্যবহার হওয়া কাঁচামালের শুল্কহার কমানো, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, সহজশর্তে অর্থায়ন, পণ্যের মান উন্নয়নে পরীক্ষাগার স্থাপন, ফাউন্ড্রি ও মেশিনিংয়ে উন্নত প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটানো, যথাযথ ব্র্যান্ডিং, অগ্রসর জেলাগুলোতে পরিকল্পিত শিল্পপার্ক গড়ে তোলা, ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে এ ধরনের পণ্যের মেলা আয়োজন, বিদেশে মেলা আয়োজনসহ আরো কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ এ খাতের উন্নয়নে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিসিএসআইআরের মুর্খ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল গফুর, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব সারোয়ার হাসান আলো, এসইআইপি প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু মোতালেব ও হাফেজ হারুন প্রমুখ।