‘ভারতের আদলে করারোপে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বিশেষ সুবিধা দিন’

দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বাজেটে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের করারোপের বিষয়ে বিশেষ সুবিধা দিতে তিনি এ চিঠি দেন। এ ব্যাপারে ভারতের গৃহীত পদক্ষেপ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার বি চৌধুরীর প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই চিঠির কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বি চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার মুখোমুখি কথা হয় না বলে এই খোলা চিঠি দিলেন।

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি’তে বি চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের ৫ ভাগের ১ ভাগ মানুষ প্রবীণ। তাদের অবদান সমাজ ও রাষ্ট্রে কতটা তা সিরিয়াসলি আমাদের ভাবতে হবে। রাষ্ট্র, সমাজ—কেউ এ ব্যাপারে দায়িত্ব এড়াতে পারে না। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের নানা অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৬০ বছর পার হলেই কতগুলো মারাত্মক ব্যাধি আক্রমণ করতে পারে। কম বয়সীদের তুলনায় বয়স্করা ১ হাজার ৫২০ গুণ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অথচ চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য।

ডা. বি চৌধুরী বলেন, বৃদ্ধদের প্রায়ই একাকিত্বের অভিশাপে ভুগতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিষণ্নতা, যার চিকিত্সা দরকার। এসব সমস্যার সমাধান মোটেই সহজ নয়। উন্নত দেশগুলোতে সমাজ ও রাষ্ট্র এই দায়িত্ব নেয়। আমরা তো উন্নত দেশের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি, তাহলে আমরা কেন এ দায়িত্ব নেবো না?

ভারতে ব্যক্তিগত আয়করের তিনটি শ্রেণি থাকার উদাহরণ টেনে বিকল্পধারা সভাপতি বলেন, অন্য দেশের যা কিছু ভালো তা অনুসরণে কোনো লজ্জা নেই। ভালো জিনিসকেই তো অনুসরণ করতে হয়। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের প্রসঙ্গে বি চৌধুরী বলেন—এই ক্যাটাগরির শিক্ষক, চিকিত্সক, সাংবাদিক, আইনজ্ঞ, শিল্পী, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীদের কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে। যৌবনে এবং পরবর্তী পর্যায়ে সমাজ ও রাষ্ট্রকে তারা যা দিয়েছেন জীবন হেমন্তে তার প্রতিদান কী তারা আশা করতে পারেন না?