প্রবাসী বাংলাদেশিদের ৩৪ ধরনের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘দূতাবাস’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হচ্ছে বলে জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় সাফল্যের এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিদেশে ১ লাখ ২০ হাজার লোক থাকেন। তাদের যাতে আরো ভালো সাহায্য করতে পারি, সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যেমন- ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করেছি, অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছি। যেন বাড়িতে বসে সেবা নিতে পারেন সেজন্য ‘দূতাবাস’ নামে অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি দূতাবাসে দেশি টিভি (বাংলাদেশি চ্যানেল) দেখার ব্যবস্থা করেছি। দুর্নীতিমুক্ত দূতাবাসে গণশুনানির আয়োজন করেছি। প্রবাসীরা যেন বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করেছি।
বাজেটের ঘাটতি মেটাতে এবং কর নেটের আওতা বাড়াতে নতুন প্রস্তাব দিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, দেশে কর দিতে পারেন এমন ৯২ লাখ লোকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আছে। কর দেওয়ার যোগ্য যাদের এনআইডি আছে, তারা সবাই কর দাখিল করলে এবং ব্যবসায়ীরা টিআইএন- এর মাধ্যমে কর দাখিল করলে কর দেওয়ার হার বাড়বে।
দারিদ্র্য হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ এ নেমেছে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ ও প্রচুর কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যা দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন। ১০ বছরে সঠিক সিদ্ধান্তের ফলে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ ভাগে নেমে এসেছে। এ বাজেট বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে এ হার পাঁচ শতাংশে নেমে আসবে। তিনি আরো বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। তাই কাজ যেন আরও সহজ হয়, গতিশীল হয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত হয়, সেজন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি।