পয়েন্ট টেবিলে ওপরে ওঠলো পাকিস্তান

নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে অসম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাধার প্রাচীর গড়ে তুলেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু অভিজ্ঞতার প্রাচুর্যে ইংল্যান্ডের হেডিংলিতে পড়শিদের সেই দেয়াল টপকে গেল পাকিস্তান। টানটান উত্তেজনার পরও মূলত ইমাদ ওয়াসিমের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শেষ হাসি হেসেছে পাকিস্তান। গতকাল শনিবার হেডিংলিতে ২ বল হাতে রেখে তারা আফগানদের হারালো ৩ উইকেটে।

পাকিস্তান এই জয়ে সেমিফাইনালের সমীকরণে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করল। ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে উঠে এলো পাকিস্তান। তাতে চাপ বাড়ল বাংলাদেশের। চ্যালেঞ্জটাও আরো কঠিন হয়ে গেল। এখন পাকিস্তানের নাগাল পেতে হলে ২ জুলাই ভারতকে হারাতেই হবে টাইগারদের। অবশ্য ভারতের কাছে হারলেও শেষ চারের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না।

বাংলাদেশকে সেক্ষেত্রে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৫ জুলাই পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেতেই হবে। সার্বিকভাবে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বাইরে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বৈরথেই চোখ থাকবে সবার। সঙ্গে স্বাগতিক ইংল্যান্ডও থাকছে সমীকরণের অংশ হয়ে।

ইমাদ ওয়াসিম এদিন বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৫৪ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। খেলা শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচও হন তিনি। এছাড়াও জয়ে অবদান রাখেন বাহাতি পেসার শাহিন আফ্রিদি। তিনি ১০ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে চার উইকেট নেন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়েও ২৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। পেসার ওয়াহাব রিয়াজও দুই উইকেট নেন।

সব মিলিয়ে আফগানিস্তান পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করলেও নয় উইকেটে ২২৭ রানের বেশি তুলতে পারেনি। ব্যাট হাতে আসগর আফগান (৪২) ও নজিবুল্লাহ জাদরান (৪২) ছাড়া অন্যরা সুবিধা করতে পারেননি।

তারপরও আফগান বোলাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে খেলাটিকে নাটকীয়তায় ভরে দিয়েছিলেন। ফলে পাকিস্তান শুরুতেই বিপর্যয়ে (৩/৮১) পড়েছিল। উইকেট তিনটি ছিল ওপেনার ফখর জামান (০), ইমাম উল হক (৩৬) ও আগের খেলায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করা বাবর আজমের (৪৫)। 

পরে আরেক দফা বিপদে পড়ে সরফরাজ বাহিনী। ১৫৬ রানে ছয় উইকেট পড়ে গেলে জয়ের জন্য ৩৬ বলে ৪৮ রানের দরকার ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু গুলবাদিন নাইবের করা ৪৬তম ওভারে ইমাদ ওয়াসিম ১৮ রান তুলে খেলাটিকে আবার পাকিস্তানের পক্ষে নিয়ে আসেন। ভারতের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও জয়ের কাছাকাছি এসে ফিরে গেল আফগানরা।