জাতীয় পার্টি-জেপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। কারণ নির্বাচন না হলে দেশে সাংবিধানিক সংকট দেখা দেবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ হুবহু তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলস্থ জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেন, চলতি একাদশ সংসদের প্রথম বৈঠক বসেছিল ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সেই হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বহাল রেখে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে এর পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যে কারণে, গত ১ নভেম্বর থেকে সেই ৯০ দিন গণনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে দেশের যুব সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা রুখে দিতেও প্রস্তুত আছে যুব সমাজ। সব দলেরই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনপ্রিয়তা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
কোর্ট রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা’র সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ীই জানুয়ারির মধ্যে না করে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেন, মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ যেদিন সংসদ ভাঙবে, তার পরের ৯০ দিনের মধ্যে ভোট করতে হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী, সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত হলেও রাষ্ট্রপতি তার এ দায়িত্বটি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করে থাকেন।
জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেলের সভাপতিত্বে নির্বাচনী সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আলম, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দা সায়রা বানু, ব্যারিস্টার উর্মি হাসান, ইঞ্জিনিয়ার কামাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এহসানুল কবির, ড. উত্তম সরকার, অ্যাডভোকেট হাজী মো. সোহেল, দপ্তর সম্পাদক এম মনিরুজ্জামান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রমিজুল ইসলাম সোহাগ, প্রচার সম্পাদক মো. আল আমিন প্রমুখ।