আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মানসূচক (আইসিসি) ‘হল অব ফেমে’ চলতি বছর নতুন করে জায়গা পেয়েছেন তিন ক্রিকেটার। তারা হলেন—ভারতের নারী ক্রিকেটের কিংবদন্তি ডায়ানা এডুলজি, শ্রীলঙ্কার অরবিন্দ ডি সিলভা এবং ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ।
সোমবার এক বিবৃতিতে এই তিন জনকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি জানিয়েছে আইসিসি। হল অব ফেমে ডি সিলভা, এডুলজি ও শেবাগকে যথাক্রমে ১১০, ১১১ ও ১১২তম সদস্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আগামীকাল বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালের আগে মাঠেই এক আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করার কথা জানিয়েছে আইসিসি। সেদিন মাঠে নামবে স্বাগতিক ভারত ও গত দুই আসরের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড।
হল অব ফেমে জায়গা পাওয়া এডুলজি ভারতের নারী ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম সুপারস্টার। তিনি ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০ টেস্ট ও ৩৪ ওয়ানডে খেলেন এই অলরাউন্ডার। বিশ্বকাপ তিনটি আসরের মধ্যে দুটিতে নেতৃত্ব দেন ভারতকে। অবসর নেওয়ার সময় টেস্টে ৬৩ ও ওয়ানডে ৪৬ উইকেট ছিল তার। পরে সংগঠক হিসেবে ভারতে নারী ক্রিকেটের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন এডুলজি। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করে রেলওয়ের নারী দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। যা এখন পর্যন্ত ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে সফলতম দল। আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারী ক্রিকেট এগিয়ে নিতে মাঠের বাইরে কয়েক দশক ধরে প্রভাববিস্তারী ভূমিকা রেখে চলেছেন এডুলজি। এর পুরস্কার হিসেবেই মূলত তিনি এবার জায়গা পেয়েছেন হল অব ফেমে।
এছাড়া শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ইতিহাস লেখা হলে অরবিন্দ ডি সিলভার নাম সর্বদা ওপরেই থাকবে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন উইকেট নেওয়ার পর খেলেন অপরাজিত ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস। ১৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৯৩ টেস্ট খেলে ৬ হাজার ৩৬১ রান ও ৩০৮ ওয়ানডেতে ৯ হাজার ২৮৪ রান করেন তিনি।
এদিকে বীরেন্দর শেবাগের শুরুটা হয়েছিল মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে। কিন্তু তাকে ওপেনারে পরিণত করেন সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। এর পর থেকে ভারতের হয়ে ওপেনার হিসেবেই দেখা যায় তাকে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনিংয়ের পরিভাষাই বদলে দেন তিনি। নতুন বলে সতর্ক থাকা অন্যান্য ব্যাটাররা যেখানে বল পুরোনো হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন, সেখানে শেবাগ বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি মেরে বলকে পুরোনো করতেন। তাই তো তার থেকে বেশি স্ট্রাইকরেট নেই আর কোনো ব্যাটারের। ১৪ বছরের ক্যারিয়ারের ১৭ হাজারেরও বেশি রান করেছেন শেবাগ। এছাড়া ভারতের হয়ে ২০১১ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ডানহাতি এই ওপেনার। প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনি টেস্টে দুটি ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।