ভারতে সদ্য শেষ হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের গোপন অস্ত্র ছিল অলরাউন্ডার রাচীন রবীন্দ্র। দারুণ একটি আসর কাটিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টটিতে সাত নম্বর ব্যাটার হিসেবে কিউই স্কোয়াডে থাকলেও ফর্মের তুঙ্গে থেকে ১০ ম্যাচের তিনটিতে সেঞ্চুরি করে একশর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৫৭৮ রান করেন তিনি।
সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাদ না পড়লে হয়তো ফাইনালেও তার ব্যাট থেকে দারুণ কিছু দেখতে পেত ক্রিকেট বিশ্ব। তবে তা হয়নি। যাই হোক বিশ্বকাপ শেষ করেই নিজের দেশে না গিয়ে দুবাইয়ে কয়েক দিন কাটিয়ে বাংলাদেশে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে দলের সঙ্গে এসেছেন তিনি। আর এখানে এসেই এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানালেন টাইগারদের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেট খেলতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
শুক্রবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার প্রসঙ্গে প্রায় দেড় মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় কিউই এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই আমি আনন্দিত। টেস্ট ক্রিকেটে সবকিছুর ওপরে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলার প্রতিটি সুযোগ, বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচে খুব বিশেষ কিছু। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেট খেলা নিয়ে আনন্দিত। এটা নিয়েও রোমাঞ্চিত কীভাবে আমার খেলাটা এই কয় বছরে বিবর্তিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘টেস্টে ঘড়িতে তাকানোর দরকার নেই, খুব বেশি ঝুঁকি না নিয়েই নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা যায়। তবে কন্ডিশন ও উইকেট বুঝে খেলতে হয়। আমার মনে হয় কখনো কখনো আমরা এটাই বুঝতে পারি না টেস্টটা কত লম্বা। আপনার হাতে পাঁচ দিন ৯০ ওভার করে আছে। তাই এখানে সময়ও আছে অনেক। আশা করি সাদা বলের শান্ত ভাবটা আমাদের লাল বলের খেলায়ও নিয়ে আসতে পারব।’
এছাড়া প্রথম বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ভিডিও বার্তায় রবীন্দ্র বলেন, ‘এটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার (বিশ্বকাপ)। আমার মনে হয় সবকিছু খুব দ্রুত হয়ে গেছে আর আমি এখন খুবই সৌভাগ্যবান। দেখুন, এটা আসলে বুঝিয়ে দেয় দলের পরিবেশটা কেমন আর আমি কতটুকু স্বাধীনতা নিয়ে খেলেছি। সময়টা উপভোগ করেছি আর দলে অনেক দিন যারা আছে তাদের কাছে শিখেছি। আশা করি তাদের কাছ থেকে শেখাটা চালিয়ে যেতে পারব।’
এ সময় সাদা বলের ক্রিকেট থেকে আবার লাল বলের ক্রিকেটে খেলতে আসার বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের সাদা বলে বেশ ব্যস্ততাই গেছে। এখন আবার লাল বলে ফেরাটা মনে হয় উপভোগই করব। কারণ এখানে আপনার ইন্টেন্ট দরকার হয়, আপনি সব সময় রান করার দিকে তাকিয়ে থাকেন। এটা আপনাকে রান করার ভালো সুযোগ করে দেবে। কিন্তু কন্ডিশন, পিচের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে।’
ঘরের মাটিতে শক্তিশালী দল বাংলাদেশ এটি কারোই অজানা নয়। কারণ টাইগারদের রয়েছে দক্ষ স্পিন বোলিং ডিপার্টমেন্ট। সম্প্রতি তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দারুণ পেসাররা। তবে নিজেদেরও খাটো করে দেখছেন না রবীন্দ্র। ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের স্পিন আক্রমণ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণ আছে, জেজি (এইজাজ প্যাটেল), স্যান্টনার, ইশ (সোধি) ও জিপি (গ্লেন ফিলিপস) আছে। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে তাদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করব এবং সোধি ও জেজির এখানে খেলার অভিজ্ঞতা আছে অনেক এবং তারা জানে এখানে কি করলে ভালো হবে। কিন্তু আমি আমার মতো করে চেষ্টা করব। প্রত্যেকেই ভিন্নরকমের বোলার। এটা স্পিন আক্রমণের ভারসাম্য বাড়িয়েছে।’
২৪ বছর বয়সি রবীন্দ্রর সাদা পোশাকে দলের হয়ে মাঠে নামার খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই। সবে মাত্র খেলেছেন তিনটি ম্যাচ। যার মধ্যে সবশেষ ম্যাচটিও বাংলাদেশের বিপক্ষে। গেল বছর মাউন্ট মঙ্গুনই টেস্টে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন তরুণ রবীন্দ্র। যদিও ঐ ম্যাচেও হেরেছিল তার দল। আর তিনিও বড় কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। তবে সেই হিসেব করে লাভ নেই। কারণ তখনকার রবীন্দ্র থেকে এখনকার রবীন্দ্র বেশ অভিজ্ঞ। আর তার সদ্য বিশ্বকাপ ফর্ম অবশ্যই টাইগারদের চিন্তায় ফেলতে পারে।