‘বড় ইনিংস খেলার সুযোগ এসেছিল, মিস করে ফেলেছি’

সিলেট টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে নেমেই ওয়ানডে মেজাজে ইনিংসের রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন টাইগাররা। তবে রান এলেও উইকেট টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হন স্বাগতিকরা। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ছাড়া কোনো ব্যাটারই এদিন শুরুটা ভালো করলেও বেশিক্ষণ উইকেটে থিতু হয়ে থাকতে পারেনি।

সফরকারীদের তিন স্পিনারের ঘূর্ণিতে উইকেট বিলিয়ে দেন শান্ত-মুমিনুল-মুশফিকের মতো দায়িত্বশীল ব্যাটাররা। এ বিষয়টি নিয়েই দিন শেষে শোনা গিয়েছে জয়ের কণ্ঠে হতাশা।

প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থরা শুরুটা ভালো করলেও লম্বা ইনিংস না খেলতে পারাল আক্ষেপ করে জয় বলেন, ‘সবাই ভালো শুরু পেয়েছিল কিন্তু বিল্ড আপ করতে পারেনি। এটা আমাদের আক্ষেপ। বোর্ডে ৩০০ রান আসে। এখন ভালো পজিশনে আছি।’

এদিন টাইগার ব্যাটাররা আসার যাওয়ার মধ্যে থাকলেও ব্যাট হাতে কিউই বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছেন জয়। তবে শেষ অবদি সেঞ্চুরি হতে ১৪ রান বাকি থাকতেই ইশ সোধির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। নিজের ব্যাটিং প্রসঙ্গে এসময় তিনি বলেন, ‘ওপেনার হিসেবে প্রতিদিন তো আর থিতু হওয়ার সুযোগ আসে না। দুটো সুযোগই হাতছাড়া করেছি। ইনশাআল্লাহ সামনে আরো ভালো করার চেষ্টা করব।’ অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে মাহমুদুল বলেছেন, ‘আমারও বড় ইনিংসের সুযোগ ছিল, মিস করে ফেলেছি। প্রতিদিন এরকম সুযোগ আসে না। আজ এসেছিল, মিস করে ফেলেছি।’

এদিকে টাইগারদের ১৩তম সাদা পোশাকের অধিনায়ক হিসেবে এদিন ব্ল্যাকক্যাপসদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩৯ রানে ওপেনার জাকির হাসান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে ব্যাট হাতে নেমেই শান্ত মারমুখি ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। ১০৫.৭১ স্ট্রাইকরেটে ৩৫ বলে খেলেন ৩৭ রানের ইনিংস। এসময় তিনি ৩টি ছয় হাঁকান। টাইগারদের ইনিংসে আর কেউই ছয় মারতে পারেননি। এছাড়া ২টি চারও মারেন।

তবে তিনি ফিলিপসের করা একটি ফুলটস বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন। যা দেখে তার অপরপ্রান্তে থাকা জয় কিছুটা হতাশ হয়েছেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘একটু তো হতাশ। আউট তো হয়ই। ফুলটস বলে হয়ে গেছে। সব দিন তো হবে না। আমি একটু অবাক হয়েছি। এর আগে অনেকগুলো ভালো শট খেলেছিলেন।’

এ সময় শান্তর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জয় বলেন, ‘শান্ত ভাই তো এভাবেই ব্যাটিং করে। উনার পরিকল্পনাই ছিল উনার স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ের, সেটাই করেছে। একটু তো হতাশা থাকবেই। সবাই সবসময় সেট হওয়ার সুযোগ পায় না। সেট হয়ে ৩০-৪০ রান করে আউট হলে সবাই একটু হতাশ হবে।’

অন্যদিকে এ ম্যাচে ব্ল্যাকক্যাপসদের পার্টটাইম বোলার ফিলিপস নিয়েছেন চার উইকেট। যেটি প্রত্যাশিত ছিল না অনেকের কাছেই। শান্ত-মুমিনুরের পর এই বোলারের শিকার হওয়া নুরুল হাসান সোহান ও শাহাদাত হোসেন দীপুর আউটও ছিল অপ্রত্যাশিত।

মাঠে নামার আগে কিউই এই স্পিনারকে নিয়ে কী পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের? এ বিষয়ে টাইগার এই ওপেনার বলেন, ‘না, দেখেন ও ওকেশনাল বোলার ছিল। আমরা যদি ওকে চার্জ না করি, তাহলে হয়তো দেখা গেল ও যদি ভালো বল করে, মেইন বোলাররা আমাদের আরো চেপে বসবে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ওকেশনাল এলে ওকে টেক অফ করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা বাজে শট খেলে আউট হয়ে গেছি।’