বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিভিন্ন সময়ে নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সেটা হোক কোনো ক্রিকেটারকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে, দল নির্বাচনের বিষয়ে বা কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে। যদি আরো পরিষ্কার করে বলতে হয়, তাহলে টানতে হবে পুরোনো কথা। এর আগে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাকিব আল হাসান, শাহাদাত হোসেন রাজিবদের মতো ক্রিকেটারদের শাস্তির আওতায় এনেছিল বিসিবি।
সেই ক্রিকেটারদের দোষ প্রমাণ হলেও ক্রিকেট বোর্ডের সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল না দেশের বেশির ভাগ সমর্থক। কাঠগড়ায় তোলা হতো বিসিবির বিভিন্ন কর্মকর্তাকে, সমালোচনার বন্যায় ভাসানো হতো তাদের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তবে কখনোই তাদের সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। এমনটি গতকাল ঢাকা টেস্ট শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
বিভিন্ন সময়ে দেশসেরা অলরাউন্ডার বিভিন্ন কাণ্ড ঘটিয়ে বিসিবির শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৪ সালে স্ত্রীকে উত্ত্যক্তকারী এক দর্শককে পিটিয়েছিলেন সাকিব, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) খেলতে যাওয়া নিয়ে প্রধান কোচ চাণ্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার করে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ, এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ২০১৮ সালে। আর প্রতিবারই বিসিবির দেওয়া শাস্তির কারণে বোর্ড সভাপতির দিকে আঙুল তুলে ট্রল, গালিগালাজ বা সমালোচনা করা হয়েছে।
এ নিয়ে গতকাল আক্ষেপ করে পাপন বলেন, ‘যে কাউকে যখনই শাস্তি দিয়েছি, সারা দেশের মানুষ আমাকে শেষ করে দিয়েছে। মানুষ চায় না এসব, আমি তো এত দিন তা-ই জানতাম। কেউ কি আমাদের সাপোর্ট করেছে কখনো, কোনো একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে? আমরা অপেক্ষা করছিলাম, এই জাগরণটা উঠুক। আপনারা এখন কিছু কিছু বুঝতে পারছেন যে কোনটা ঠিক কোনটা ঠিক না।’
কিছুদিন আগে বিসিবি বোর্ড সভাপতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছিলেন, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি। তবে সেটি করতে গেলে দেশের মানুষ তাকে ধুয়ে দেবে। তবু ক্রিকেটের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্তগুলো নিতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি বলেছি, দেখেন, ক্রিকেটের ভালো করতে হলে আমাকে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেটা মানুষ পছন্দ করবে না। সহজ একটা হিসাব। আমি জানি আমাকে ধুয়ে ফেলবে সবাই, কিন্তু নিতে তো হবে।’
এ সময় ডিসিপ্লিন নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে সভাপতি বলেন, ‘খালি একটা উদাহরণ দিই, ডিসিপ্লিন বলে কিছু আছে? এবার আমার মনে হয়নি। ডিসিপ্লিন ঠিক করতে হবে না? সে যে-ই হোক না কেন। এসব করতে গেলে আমার বোর্ডেরও অন্যরা ভাবে, হায়রে আমার পেছনে লাগছে। এ জন্য কেউ করে না। এ রকম পেছনে লাগাটা বন্ধ করেন না, দেশকে ভালোবাসেন, ক্রিকেটকে ভালোবাসেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। এটা কোনো ব্যাপারই না। আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। এ ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সাপোর্ট দরকার, বিসিবি কখনো সাপোর্ট পায় না। এইটুকু শুধু আপনাদের বলতে পারি।’
এদিকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির পর দল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম বিভিন্ন রকমের চমকপ্রদ খবর প্রকাশ করছে। সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে এমন বিষয়েও প্রতিবেদন বানাচ্ছে যা অদৌ ঘটেনি। তবে সবকিছু জেনেও নীরব অবস্থানে বিসিবি। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দই আসছিল না। অবশেষে নীরবতা ভেঙেছে বোর্ড।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির সভাপতি বলেন, ‘জিনিস বদলাচ্ছে। একটা সময় ছিল, মিথ্যা কিছু তথ্য দিলেই আপনার মানুষ বেশি খেত। এটা একটা গ্রহণযোগ্য ছিল। আপনারা তো সাংবাদিক, খোঁজ নিয়ে দেখেন; এ সমস্ত মিথ্যাচার করতে করতে আস্তে আস্তে মানুষ কিন্তু উলটো কথাও বলছে যে এরা তো ক্রিকেটকে ধ্বংস করার জন্য নামছে। ধারাবাহিকভাবে। আমরা জানি এটা। আমরা এটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। জানুক, তারপর বিসিবির যা করার তা তো করবেই।’