ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জীবনাবসান

ভার্জিনিয়া উলফ লিখিয়াছেন, ‘কেহ যখন মৃত্যুবরণ করেন, তিনি অন্যদের জীবনের মূল্য বুঝাইয়া দিয়া যান। তিনি চলিয়া যান; কিন্তু আমরা তাহাকে এবং তাহার সময়কে স্মরণ করিতে থাকি।’ ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করিলেন দেশের একজন উল্লেখযোগ্য আইনজীবী ও সাংবাদিক ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ৮৩ বত্সরের দীর্ঘ জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারের কিংবা দেশের বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। তিনি সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করিয়াছেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। তিনি ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসাবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়; গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করিয়াছেন। এই সময়ে তিনি নির্বাহী বিভাগ হইতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করিয়াছিলেন, যাহা এখনো বিভিন্ন মহলে প্রশংসার সহিত উচ্চারিত হইয়া থাকে। উল্লেখ্য, তিনি তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। শেরেবাংলা এ কে ফজলুুল হক, মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পর রাজনীতিতে পশ্চিম পাকিস্তানের সহিত যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ফাটল দীর্ঘ হইতে থাকে, এমনি সময়ে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ১৯৬৯ সালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করিলে তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসাবে দৈনিক ইত্তেফাকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মইনুল হোসেন। মানিক মিয়ার জীবনাবসানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ইত্তেফাকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি হইয়া উঠে সংকট মোকাবিলার। দলের মুখপত্র হিসাবে ইত্তেফাক সেই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করিয়া আসিতেছিল। সত্তরের দশকের প্রারম্ভে পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলিতেছিল; এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে এবং স্বাধীনতা-পরবর্তীকালের সংকটগুলি প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালের প্রথম সংসদের তিনি একজন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

মইনুল হোসেন এখন জাগতিক সকল কর্মকাণ্ডের ঊর্ধ্বে উঠিয়া গিয়াছেন। আল্লাহ তাআলা তাহাকে পৃথিবী হইতে তুলিয়া লইয়াছেন। পবিত্র কুরআন শরিফে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করিয়াছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিতে হইবে এবং তোমরা নিজ নিজ কাজের ফল সম্পূর্ণরূপে কিয়ামতের দিন পাইবে (সুরা আল ইমরান, আয়াত ১৮৫; সুরা আনকাবুত, আয়াত ৫৭)। তিনি একা নহেন, জগতে প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ তাআলার সম্মুখীন হইতে হইবে। আমরা শুধু তাহার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া চাহিতে পারি।