রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বিস্ফোরক মামলায় বন্দী এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম (৫২) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভার স্টেশন এলাকার মৃত আবেদ আলীর ছেলে। তিনি বিএনপির কাঁকনহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পুলিশের করা বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার হানিফ আহমেদ জানান, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় গত ৭ নভেম্বর থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন মনিরুল ইসলাম। সোমবার সকালে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। এরপর তাকে কারা হাসপাতালে এবং পরে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, সোমবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই কারাবন্দিকে আনা হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে কারা কর্তৃপক্ষ মনিরুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। রাত ৮টায় মৃতের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ড লালপুকুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গোলাম মোস্তফা মামুন দাবি করেন, বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলামের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তিনি মনিরুলের মৃত্যুর কারণ জানতে যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার (সদর) জামিরুল ইসলাম জানান, মৃত্যুর পর মনিরুল ইসলামের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তার মৃত্যুর ঘটনায় রাজপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।