ভাবুন তো, আপনি যে খবরের কাগজ পড়ছেন, সেটি পড়া শেষ হলে, কাগজের টুকরোগুলো মাটিতে ফেলে দিলেন, আর কিছুদিন পর সেখানে হলো একটা ডেইজি ফুলের গাছ! শুনতে আশ্চর্য মনে হলেও এমনটা ঘটেছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে!
জাপানের বহু পুরনো পত্রিকা হিসেবে পরিচিত মাইনিচির পথচলা শুরু ১৮৭২ সালে। শুরুতে মূলত জাপানি ভাষায় ‘Mainichi Shinbun’ নামে প্রতিদিন বের হলেও ১৯২২ সালে ইংরেজি ভাষায় ‘Mainichi’ নামে দৈনিক, রবিবারে সাপ্তাহিক মাইনিচি ম্যাগাজিন এবং অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য ব্রেইল মাইনিচি বের করা শুরু করে মাইনিচি কর্তৃপক্ষ।
জাপানে ২০১৫ সালের ৪ মে ‘Greenery Day’ উপলক্ষে মাইনিচির পক্ষ থেকে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে মাইচিনি পত্রিকাকে ‘Green Newspaper’ করা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংবাদপত্রটি ‘সিড পেপার’ ব্যবহার করে পত্রিকাটি সেদিন (০৪ মে) একটি বিশেষ সংস্করণ ছাপানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সিড পেপারে কাগজের মধ্যেই ফুলের চারার বীজের প্রলেপ ছিল যা শিল্পকারখানার বর্জ্য কাগজ পুনর্ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। ভারতীয় পপি, কর্ন পপি এবং স্ন্যাপড্রাগনের মতো বন্য ফুলের বীজ ছিল উক্ত সিড পেপারে।
পরবর্তীতে ওই আয়োজনের বিষয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মাইনিচি জানায়, পাঁচ ধরনের ফুলের বীজের প্রলেপ সম্বলিত ‘গ্রিন নিউজ পেপার’-এর দেড় হাজার শীট যাতে পরিবেশ সংক্রান্ত আর্টিকেল ছিল তা সেদিন (০৪ মে) বিতরণ করা হয়েছিল। আর্টিকেলগুলো পড়ার পরে, দর্শকরা এটি ছিঁড়ে ফেলে, এটি একটি ফুলের পাত্রে রাখে এবং মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়। প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো অঙ্কুরিত হওয়ার কথা জানানো হয় প্রতিবেদনে।পরবর্তীতে সে বছরের (২০১৫) আগস্টে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টারিতেও গ্রিন নিউজপেপার ক্যাম্পেইনের বিষয়ে একই তথ্য এসেছে।
এ পৃথিবীর সকল আবর্জনা যদি এভাবে ফুল হয়ে যেতো! কী দারুণ হতো ভেবে দেখুন?