প্রতি বছরে মতো এবারও বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে এক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই ম্যাচে গতকাল সকাল ১১টা মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে শহীদ মোশতাক ও শহীদ জুয়েল একাদশ। সেই ম্যাচে শহীদ মোশতাক একাদশকে সাত উইকেটে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে শহীদ জুয়েল একাদশ।
এই ম্যাচ দেখতে গতকাল হোম অব ক্রিকেটে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। জানান নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকার পরও এই ম্যাচ দেখতে সব কাজ একদিন পিছিয়ে মাঠে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। এ সময় ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলিনি। এইটা অস্বীকার করার কোনো পথ নেই।’ এক পর্যায়ে বিশ্বকাপে এমন ব্যর্থতার জন্য দলের ব্যাটিং লাইনআপকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আসরের সব উইকেট না তবে বেশির ভাগ উইকেটই ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল। এমন উইকেটে সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে রান। আর যে সমস্ত দল বড় রান করেছে তাদের প্রথম তিন জন দেখেন গিয়ে ২০০ রান করে বসে আছে। অনেক সময় দুই জনই করে। কিন্তু প্রথম তিনই রানটি করে দিয়েছে। আর দেখেন আমাদের প্রথম পাঁচ জনই রান করতে পারেনি। করতে পারেনি বলতে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী।’
তিনি আরও বলেন, ‘তানজিদ তামিম ওরটা যদি শুধু বাদ দেই কারণ এইখানে ওর না তামিম ইকবালের থাকার কথা ছিল, লিটন দাস, শান্ত, সাকিব, মুশফিক—যারা আমাদের আসল ব্যাটার। তারা ভালো করতে পারেনি। এরা ভালো না করলে শেষ দিকে হৃদয়, মিরাজ, রিয়াদরা বড় ম্যাচ জেতাবে বিশ্বকাপে গিয়ে এটা তো চিন্তাই করা যায় না। এখন আমাদের দেখা উচিত কেন ওরা রান করতে পারল না। ওরা তো আমাদের পারফর্মার।’
এদিকে বছরের শুরু থেকেই ব্যাট হাতে ফর্মে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রায় প্রতি ম্যাচেই ধারাবাহিক ছিল তার ব্যাট। এতে করে শান্তর ব্যাটে করেই বিশ্বকাপে দলের ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছিল দেশবাসী। তবে তিনিও বিশ্বকাপে গিয়ে সবাইকে হতাশায় ভাসিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘শান্ত আমাদের দলের সেরা ব্যাটারদের মধ্যে একজন। হঠাৎ করে বিশ্বকাপে গিয়ে তার কি হলো যে একেবারেই ছন্দ হারিয়ে ফেলা। একজন ধারাবাহিক ব্যাটার। তো মূল সমস্যা হয়েছে ব্যাটিংয়ে। এইটা নিয়ে একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে এখন মনে হয় শান্ত নিজের ফর্ম ফিরে পেয়েছে। এইটা একটা ভালো লক্ষণ।’
ছেলেদের প্রসঙ্গ শেষ হতেই বোর্ড সভাপতির মুখে নারী ক্রিকেটের আলাপ। টাইগ্রেসদের ভাসালেন প্রশংসায়। এ সময় গেল জুলাই মাসে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ভারত নারী দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখনো তিনি ইউটিউবে গিয়ে দেখেন বলে জানান। বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যেই টাইটা (ড্র) করল শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। আমি এখনো এই ম্যাচটি ইউটিউবে গিয়ে দেখি। টাই করানোর কথা মনে আছে? শেষ বল এক অসাধারণ মুহূর্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতলাম এটা একটা বিরাট অবদান। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতলাম ওদের ওখানে গিয়ে এটা কি সোজা কথা।’
বর্তমান জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরেই। নির্বাচক প্যানেলে কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। লম্বা সময় হয়েছে। সব সময়ই পরিবর্তন হওয়াটা ভালো।’ সেই সঙ্গে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘যদি কাউকে সরাতে হয় তাকে সসম্মানেই সরানো হবে, ‘কিন্তু কাউকে এক্সকিউজ করে বাদ দেওয়া, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাদ দেওয়া, এটা খুব খারাপ ঘটনা সৃষ্টি করবে।’ অন্যদিকে চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে জাতীয় দলের বর্তমান নির্বাচক কমিটির মেয়াদ। বর্তমান কমিটির সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হোক বা নতুন কমিটি নিয়োগ, সেই প্রক্রিয়া আপাতত ঝুলে থাকছে জাতীয় নির্বাচনের জন্য। এমনটি শনিবার জানিয়েছে বোর্ড সভাপতি। বলেন, ‘নির্বাচক হতে হলে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হতে হবে এমন কোনো ধারা নেই বিসিবির গাইডলাইনে। সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি নেই।’
সেই সঙ্গে নির্বাচক প্যানেলের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাওয়া হলে পাপন বলেন, ‘আমাদের একটা কমিটি আছে, ঐ কমিটি আমাদের কাছে নাম প্রস্তাব করবে। উনারা দেখবেন কারা কারা আগ্রহী প্লাস ওদের প্রেফারেন্স কী। সেটা নিয়ে বোর্ডে আলোচনা হবে। সেখান থেকে আমরা সিলেক্ট করব। আসলে কে কে হবে, কে আসবে, এই মুহূর্তে এটা বলা খুব কঠিন। তবে কারো যদি ইচ্ছা থাকে, তাহলে সে প্রকাশ করতে পারে। কোনো সমস্যা নেই।’