ম্যাচ হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিজয়

ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে হতাশ হয়ে ফেরার পর ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে খারাপ সময় ভুলে খানিকটা আত্মবিশ্বাস জোগায় বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাসে ভর করেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে তাদের দেশে যান টাইগাররা। সেখানে গিয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে জয় তুলে মনোবল আরেকটু চাঙ্গা হয় টাইগারদের। তবে এ সফরের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে গতকাল মাঠে নেমে ডিএলএস মেথডে ৪৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ দল।

আর এই ম্যাচ শেষে দলের হারের দায়টা নিজের কাঁধে তুলে নিলে দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার এনামুল হক বিজয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হিসেবে এসে তিনি বলেন, ‘আরেকটু পরিকল্পনা করে আমরা সাজাতে পারতাম। আমি মনে করি আমি আফিফ ও হূদয় যদি আরেকটু ধৈর্য ধরতাম, আরেকটু লম্বা খেলতাম, তাহলে মনে হয় দৃশ্যপটটা ভিন্ন হতে পারত। যদি শেষ ৫ ওভারে ৫০ রানও লাগত, হয়তো আমরা ম্যাচটাকে বের করে আনতে পারতাম। আমাদের ভালো সুযোগ ছিল, আমরা ব্যাটিংয়ে একটা ছন্দও পেয়েছিলাম। সবার চিন্তা ছিল যে আমরা ম্যাচ জিততে পারব। দোষটা আমিই নিতে চাই যে ভুল আমি করেছি। আমি যদি একটু বড় রান করে আসতাম, ম্যাচটা শেষ করে আসতাম, তাহলে দলের জন্য খুব ভালো হতো। জয় দিয়ে শুরু করতে পারতাম। নিজের ভেতর অপরাধবোধ কাজ করছে।’

এ সময় এই ম্যাচ থেকে কী শিক্ষা নিয়ে সামনে ম্যাচে কাজে লাগাতে পারে এই প্রসঙ্গে বিজয় বলেন, ‘আমরা দেখছি ওয়ানডে ক্রিকেট বলেন, টেস্ট ক্রিকেট কিংবা টি-টোয়েন্ট বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই (টপ ওর্ডার) লম্বা রান করে। তাতে দল একটা অতিরিক্ত সুবিধে পায়। একটা টপ ওর্ডারের ব্যাটার যখন ৩০/৩৫/৪০ ওভার উইকেটে থাকে তখন কিন্তু রানের চাকাটা অটোমেটিক সচল থাকে। এতে করে দলের উপকার হয় এবং তিনি ভালো করছে বড় সংগ্রহ পায়। অনেক সুবিধা বের হয় যায়। তাই টপ অর্ডারকে দায়িত্ব নিতে হবে। আজকে আমি সেট হয়েছি, তবু ইনিংস বড় করতে পারিনি। আফসোস হচ্ছে। পরে যখনই আবার সুযোগ পাব, চেষ্টা থাকবে সেটা যেন বড় করতে পারি। এটা একেক দিন একেক ব্যাটসম্যানের ক্ষেত্রে হবে। কোনো দিন সৌম্য সেট হবে, কোনো দিন লিটন বা শান্ত (নাজমুল)। তারা যখনই সুযোগ পাবে, সেটা যদি বড় করতে পারে, তাহলেই দৃশ্যপট বদলে যাবে।’

তবে বিজয়ের চোখে বারবার বৃষ্টির বাগড়াও ম্যাচে বাংলাদেশকে বেশ ঝামেলায় ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কার্টেল ওভার যখনই হয়, তখন কিন্তু মূল বোলারদের বোলিংয়ে একটু সমস্যা হয়ে যায়। শরীফুল-মোস্তাফিজ কিন্তু পরের দিকে বোলিং করতে পারেনি। কারণ, একজন বোলার ছয় ওভারের বেশি করতে পারবে না। আমাদের পার্টটাইম বোলারদের দিয়ে চালাতে হয়েছে। কয়েক জনের ওভার হাতে থাকলে আমরা হয়তো সেটা কাজে লাগাতে পারতাম। বাতাস ছিল, স্পিনারদের দিয়ে চালাতে হয়েছে।’

এদিকে বরাবরই প্রতিপক্ষ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলতে গেলে কন্ডিশনের পাশাপাশি তাদের পেস আক্রমণের সামনে টাইগাররা কিছুটা সমস্যায় ভোগেন। দলের আগের সফরগুলোতে এমনটি দেখা গিয়েছিল ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। গতকাল স্বাগতিকদের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে মাঝেমধ্যেই বাউন্সারে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে টাইগারদের। এর মূল কারণ হলো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের উচ্চতা। এমনটা জানিয়ে বিজয় বলেন, ‘ওদের পেসারদের উচ্চতা কিন্তু অনেক। যখন একটা সাড়ে ছয় ফিটের একটা বলার বল করে, তখন এমনিতেই একটা বাড়তি সুবিধা পায় বাউন্সের ক্ষেত্রে, যেটা আমরা সাধারণত খেলে অভ্যস্ত নই। কিন্তু আশা করি, এইটায় আমরা নিজেদের অভ্যস্ত করতে পারব। আরো দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ আছে।’