দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটের আলাপ শুরু হয়েছে আরও আগ থেকে। এই আলাপচারিতায় লোকজন এবারও রাজশাহী-৬ চারঘাট-বাঘায় বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে আশা করছেন।
সাধারণ মানুষ বলছেন, শাহরিয়ার আলম এলাকার উন্নয়নে পরীক্ষিত নেতা। তিনি গত ১৫ বছরে যে পরিমান উন্নয়ন করেছেন তা অন্য কোনো সরকারের আমলে হয়নি। এ কারণে আমরা আবারও তাকেই নির্বাচিত করতে চাই।
জানা গেছে, এই আসনে এবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেনহাফ ডজন নেতা। এ দিক থেকে ফের দলীয় মনোনয়ন স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা পেয়েছেন তিন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দুইবারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এখানে দুই উপজেলা নির্বাচন অফিসে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়ে ছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই এ একজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অবশিষ্ট ছয় জনের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ১৭ ডিসেম্বর জাকের পার্টির রাজশাহী জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাঘার কৃতি সন্তান রিপন আলী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
অবশিষ্ট ৫ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া মাত্র শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারণা। দুপুর থেকে শুরু হয়েছে সকল দলের মাইকিং। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের প্রতীক সম্বলিত ফেস্টুন ও বিলবোড আগে থেকে তৈরি রাখার সুবাদে প্রথম দিনই বিভিন্ন জায়গায় সেটে দিয়েছেন। এই পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতা রায়হানুল হক রায়হান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
এলাকার লোকজন বলছেন, মনোনয়ন বঞ্চিত রায়হানুল হক এবার দিয়ে তিন দফা নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন। তবে অনেকের মতে, এবার রায়হানুল হক আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু এবং বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলী।
বাকি চারজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থীত দলীয় প্রার্থী। এরা হলেন আওয়ামী লীগ থেকে ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি (এনপিপি) মহসিন আলী, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক শামসুদ্দিন রিন্টু। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) প্রার্থী ও বাঘা উপজেলা কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুস সামাদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক জুলফিকার মান্নান জামী।
তবে দুই উপজেলার মুরব্বিরা বলছেন, দেশ স্বাধীনের পর রাজশাহী-৬ চারঘাট-বাঘা আসনে শাহরিয়ার আলম প্রথম নৌকার মাঝি। তার আগে (রাজশাহী-৬) এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী কখনোই বিজয় অর্জন করতে পারেনি। তিনি একদিকে যেমন শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার, অপরদিকে উন্নয়নের রূপকারও বটে। সবমিলে এবারও তার পাল্লা ভারি বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম, বাঘার আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী ও স্থানীয় তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, শাহরিয়ার আলম এলাকার উন্নয়নে একজন পরীক্ষিত নেতা। তিনি এ দেশের একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হওয়ার সুবাদে সরকারিভাবে অসংখ্য উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে বহু মানুষকে আর্থিক সহায়তা করেছেন। বিশেষ করে তার দেওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে একটি পৌরসভা, দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি (মা ও শিশু) হাসপাতালের জমি দান সর্বস্তরের মানুষের মনে দাগ কেটেছে। শুধু তাই নয়, গত ১৫ বছর তার সম্মানীর ভাতার সব অর্থ বিতরণ করে আসছেন চারঘাট-বাঘার মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। নানা করণে তার জনপ্রিয়তা সব প্রার্থীর শীর্ষে। আমরা আশা করছি, এ অঞ্চলের মানুষ এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে আবারও তাকেই বিজয়ী করবেন।