সাধ আছে সাধ্য নেই, এমন মানুষ নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখেন আলাদিনের সেই চেরাগের। যাতে ঘষা দিলেই দৈত্য এসে স্বপ্নটা পূরণ করে দেবে। সমাজের সামর্থ্যহীন মানুষের স্বপ্ন পূরণে এভাবে যদি কেউ এগিয়ে আসেন, তবে তিনি হবেন সত্যিকারের ইচ্ছে পূরণের ফেরিওয়ালা। বাস্তবেই এমন একজন সাদা মনের মানুষ ও ফেরিওয়ালার দেখা পেয়েছেন রাজশাহী-৬ আসন চারঘাট-বাঘার মানুষ। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তার ভালোবাসায় সিক্ত এ অঞ্চলের হাজার-হাজার গরিব-দুঃখী মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, শাহরিয়ার আলম সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। একজন বৃদ্ধ নারীর সখ ছিলো, তার বাড়িতে একটি ফ্রিজ কেনার। একজন গরিব ভ্যানচালক তার ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর প্রিয় নেতার কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কীভাবে তিনি সংসার চালাবেন? একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মা প্রিয় নেতার কাছে গিয়ে জানালেন, তার মেয়ে রুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অথের্র অভাবে তাকে ভর্তি করাতে পারছেন না। অপর একজন বৃদ্ধ বাবা নুয়েপড়া শরীর নিয়ে তার কাছে ছুটে গেলেন, ছেলের জটিল রোগ অপারেশনের জন্য। কিন্তু কেউই খালি হাতে ফিরলেন না। সকলের চাওয়ার পূর্ণতা দিলেন স্বপ্ন পূরণের ফেরিওয়ালা শাহরিয়ার আলম। এমনিভাবে অসংখ্য গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন তিনি। নানা কারণে তিনি এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন।
চারঘাট-বাঘার সুশীল সমাজের লোকজন জানান, জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত এই মানুষটি পরপর তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দুইবারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি তার সম্মানী ভাতার সব অর্থ শিক্ষাখাতে ব্যয় করেছেন গত ১৫ বছর। এ ছাড়াও নিজ উদ্যোগে নানামুখী অনুদানসহ অসংখ্য গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়ান তিনি। তার উন্নয়নের কথা যদি বলতে হয়, সেটিতো দৃশ্যমান। নানা কারণে চারঘাট-বাঘার মানুষ তাঁকে খেতাব দিয়েছে ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’। তিনি কাউকে ছোট করে দেখেন না। তার সঙ্গে দেখা করতে হলে কারও অনুমতিও লাগে না। তিনি ফুটপাতে বসে কালাই রুটি খাওয়া থেকে যে কোনো গরিব মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভাত খেতেও সঙ্কচ বোধ করেন না। তাদের মতে, এলাকার উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে শাহরিয়ার আলমের কোনো বিকল্প নেই।
বাঘা মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মো. নছিম উদ্দিন জানান, গত ২১ অক্টোবর বাঘায় একটি উন্নয়নমূলক কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর কাছে এসে দাঁড়ালেন ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক নারী জেলেমনি। তার বাড়ি উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের পাওসাওতা গ্রামে। তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে বললেন, তুমি আমার বেটা, আমাকে একটা ফ্রিজ কিনে দাও। আমি একটু একটু করে খাবার ফ্রিজে রাখবো। এরপর একটু একটু করে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খাবো। বৃদ্ধ নারীর এ কথা শুনে হতবাক হয়ে তার মুখের দিয়ে চেয়ে রইলেন তিনি। অতঃপর রাজি হলেন তিনি। এরপর আমাকে ফ্রিজটি কিনে দেওয়ার দায়িত্ব দিলেন। আমি পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলায় গিয়ে জেলেমনি কাঙ্খিত চাওয়া ফ্রিজটি কিনে তার হাতে তুলে দিলাম।
বাঘার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামুন বলেন, আমরা চারঘাট-বাঘায় বিগত সময়ে অনেক এমপি, মন্ত্রী পেয়েছি। তবে শাহরিয়ার আলম একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। তিনি গরিব-দুঃখীদের ফেরিওয়ালা। তার নিজ অর্থায়নে ইতিমধ্যে দুটি ইউনিয়ন পরিষদ, একটি মা ও শিশু হাসপাতাল ও একটি পৌরসভার ভবন নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করে দেওয়ার বিষয়টি সবার জানা। সর্বশেষ বাঘার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অত্যাধনিক অজুখানা নির্মাণে গত প্রায় দুই মাস পূর্বে তিনি আর্থিক অনুদান দিয়েছেন ২৫ লক্ষ টাকা। এ খবর শুনে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তার জন্য দোয়া করেছেন। আমার বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে তিনি চতুর্থবারের মতো বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
এদিকে বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানালেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলম যেভাবে মানুষে পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহায়তা দিয়েছেন তা অপূরণীয়। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই উপজেলায় অনেক ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে উন্নত মেশিন এবং লোক মারফত গরিব-দুঃখীদের বাড়িতে নিজ অর্থায়নে শাকসবজি থেকে শুরু করে চাল-ডাল পর্যন্ত পৌছে দিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমার ধর্ম মানবতা। পৃথিবীতে নানা মত আর পথ আছে। আছে নানা বিশ্বাস আর ধর্মবোধ। তবে এগুলোর মধ্যে মানব ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। মানুষ যখন এই মানব ধর্মকে সবার ওপরে স্থান দেবে, সব ভুল থেকে বেরিয়ে আসবে, তখন চিন্তা হবে কল্যাণকামী আর মানবপ্রেমী। তবেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রাণের সম্মেলন ঘটানো সম্ভব হবে। যেটি আমাদের প্রিয়নেত্রী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করে থাকেন। আমি তার অনুসারী হিসাবে যৎসামান্য কিছু করার চেষ্টা করি মাত্র।