অস্ত্র ও গুলিসহ প্রবেশের ঘটনা বেড়েই চলেছে

বিমানবন্দরে গুলিসহ আটক এলডিপির মহাসচিব জামিনে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পূর্বঘোষণা না দিয়ে স্পর্শকাতর স্থাপনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলি নিয়ে যাত্রীদের প্রবেশের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সাত রাউন্ড গুলি ও ম্যাগাজিন নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ আটক হয়েছেন। সোমবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। একই দিন বিকালে ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মহানগর হাকিম তার জামিন মঞ্জুর করেন।

শাহজালালের এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্সের (এভসেক) পরিচালক উইং কমান্ডার ওবায়দুর রহমান জানান, সোমবার সকাল সোয়া ৭টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রেদোয়ান আহমেদের চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। তল্লাশির সময় তার ব্যাগ থেকে একটি ম্যাগাজিনসহ গুলি উদ্ধার করা হয়। নিয়মানুযায়ী বিমানে গুলি ও অস্ত্র বহন করতে হলে আগেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। রেদোয়ান আহমেদ তা করেননি।

বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় তার ব্যাগে সাতটি গুলির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে গুলিগুলো যে তার ব্যাগে ছিল তা নাকি মনে ছিল না। পরে তাকে গুলিসহ বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর এবং আদালতে পাঠানো হয়। সোমবার বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মণ্ডল আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত রেদোয়ানের জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি খেলনা পিস্তল নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর হয়েই উড়োজাহাজে উঠে পলাশ আহমেদ নামে এক যুবক পাইলট-ক্রুদের জিম্মি করেছিলেন। পরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে তিনি নিহত হন। ওই ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই মার্চের শুরুতে লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে শাহজালালের প্রথম ধাপের নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ওই ঘটনাও দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। এর দুই সপ্তাহ পার না হতেই ১৬ মার্চ বিনা ঘোষণায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে ঢুকে গ্রেফতার হন প্রবাসী পল্লী গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুহিদুর রহমানের দেহরক্ষী নুরুল ইসলাম। পরে জামিন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। এর সপ্তাহখানেক পর সাতক্ষীরার আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মুজিবুর রহমান পিস্তল ও গুলি নিয়ে বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন।