হলি আর্টিজানে হামলার তৃতীয় বছর পূর্তিতে নিহতদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে। স্মৃতিবেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন নিহতদের স্বজন, দেশি-বিদেশি নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। অনেকেই নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাউকে কাঁদতে দেখা গেছে। জঙ্গি হামলার তিন বছর পূর্তিতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর প্লটে অবস্থিত সেই হলি আর্টিজান খুলে দেওয়া হয়।
সকাল ১০টার দিকে প্রথম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এসময় তিনি কিছুক্ষণ সেখানে নীরবতা পালন করেন। বিদেশি নিহতদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বাংলাদেশে অবস্থান করা ইতালিয়ান কয়েকজন নাগরিক। ছিন্নমূল মানুষদের নিয়ে কাজ করা ইতালিয়ান নাগরিক ফাদার রিকার্দো তোবানিল্লি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে জঙ্গিদের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকাস্থ জাপানের রাষ্ট্রদূত, ইতালির রাষ্ট্রদূত, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর স্ত্রী ইতালির নাগরিক আনেজি বারেলো ও ৪৬ বছর ধরে এ দেশে বসবাস করা ফাদার আতিলিও ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ।
হলি আর্টিজান বেকারিতে ঐ হামলায় নিহত জাকিরুল হাসান শাওনের মা মাসুদা বেগম এসেছিলেন ছেলের প্রতি ভালোবাসা জানাতে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে হত্যার বিচার আমি পেলাম না। আমার ছেলেটাকে র্যাব, পুলিশ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। ওকে তারা জঙ্গি মনে করেছিল।