২৫ বছর আগে ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণের মামলার রায় আগামীকাল বুধবার ঘোষণা করা হবে। পাবনার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী গতকাল সোমবার এ দিন ধার্য করেন।
গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পাবনার পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা ও অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনাইন। অপরদিকে আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম গেদা ও অ্যাডভোকেট সনত কুমার সরকার। পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শামসুল হুদা।
পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা জানান, আদালত ৩ জুলাই বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার সাফাই সাক্ষীগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী না দিয়ে সময় প্রার্থনা করে আবেদন জানান। বিচারক সময়ের আবেদন বাতিল করে গতকাল সকাল ১০টায় যুক্তিতর্ক শুরুর দিন ধার্য করেন। সেই সাথে হাজির হওয়া ৩০ আসামির জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার অন্যতম আসামিরা হলেন, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর দুলাল প্রমুখ।
১৯৯৪ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে ট্রেনে করে খুলনা হতে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ট্রেনটি প্রবেশের পূর্ব মুহূর্তে হঠাত্ ঐ ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। ঈশ্বরদী স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি করলে পেছনের দিক হতে আবারো হামলা হয়।
পরে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) বাদী হয়ে জাকারিয়া পিন্টুসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত করে। আসামি করা হয় ৫২ জনকে।