পিরোজপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত্

সড়ক প্রশস্তকরণের জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের পর পিরোজপুরের একটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলে জমা না করে ব্যক্তিগত হিসাবে জমার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজে অভিযুক্ত হলেও এর নেপথ্যে একটি বড় চক্র জড়িত বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, পিরোজপুর-নাজিরপুর-গোপালগঞ্জ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ হাইস্কুলের মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ জমি ২০১০-২০১১ সালে সরকার অধিগ্রহণ করে। এ বাবদ ক্ষতিপূরণ হিসাবে ওই বিদ্যালয়ের বরাবরে ৬৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অবকাঠামোগত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ  সাহা বিদ্যালয়ের বদলে নিজের নামে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল ও ১৬ মে দুই দফায় মোট ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন। জেলা প্রশাসকের জমি অধিগ্রহণ শাখার চোখ এড়িয়ে একটি চক্রের যোগসাজশে এই টাকা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষকের নিজের নামে বরাদ্দ হয় এবং সোনালী ব্যাংক থেকে তিনি তা উত্তোলন করেন। পুরো চক্র এই অর্থের ভাগিদার হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি অতি সম্প্রতি ফাঁস হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমান জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করে। জেলা প্রশাসক পিরোজপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, যার সরেজমিন তদন্ত শুরু হয় ২৭ জুন।

এদিকে, এলাকাবাসীর চাপে ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার  টাকার মধ্যে গত ১৩ জুন স্কুলের সঞ্চয়ী হিসাবে ১০ লাখ টাকা জমা দেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম। পাশাপাশি বাকি টাকা থেকে আরো ১০ লাখ টাকা আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে জমা করার অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন তিনি। দুই বছর আগে ৩৪ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেননি বলে স্বীকারও করেছেন এই শিক্ষক। তিনি ইত্তেফাকের কাছেও স্বীকার করেন, ওই অর্থ একটি চক্রের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। ২০১৭ সালে পিরোজপুরে কর্মরত একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সহায়তায় তিনি এ দুর্নীতি করেছেন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।