আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা নির্বাচনী মাঠে নৌকা ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নাটোর-৪ সংসদীয় আসনে জোষ্ঠ্য নেতাদের এমন বিভক্তির ফলে ভোটযুদ্ধে নৌকাকে পেছনে ফেলার তে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক। এমন শঙ্কা স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যেই।
ভোটকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের জোষ্ঠ্য নেতাদের দ্বিমুখী অবস্থানের ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর পৃথক দুটি হামলার ঘটনাও ঘটেছে। মূলত গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সদসীয় আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর ভোটের মাঠে রয়েছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। তার সাথে ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেনবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভন। এখানে আরো আট প্রার্থী থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই দুই প্রার্থী।
দলীয় সূত্র বলছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল কুদ্দুস এই আসনে নৌকা নিয়ে পাঁচবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। এক মেয়াদে প্রতীমন্ত্রীও ছিলেন। এ বছরের আগষ্টে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান স্থানীয় নেতাদের মতের বাইরে গিয়ে নৌকা প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও তিনি নৌকা পেয়েছেন। তবে দুই উপজেলার বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগই তার পক্ষে নেই।
বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র কে এম জাকির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিবেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষে তারা নৌকায় না চড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাকে উঠেছেন।
দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, বতর্মান সংসদ সদস্য নৌকা প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান বড়াইগ্রামের বনপাড়ার বাসিন্দা। উপনির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শীর্ষ নেতাদের দূরত্ব বারে। সেই দূরত্ব এখন বিভক্তিতে রূপ নিয়েছে। ফলে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে দলের শীর্ষ নেতারা প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মূলত বড়াইগ্রাম উপজেলায় তার সাথে নির্বাচনী প্রচরণায় মাঠে নেমেছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, বনপাড়া পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম জাকির হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বনপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, বড়াইগ্রাম পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল বারী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক রায়হান, যুবলীগের আহবায়ক সদস্য জাহিদুল ইসলামসহ পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
এদিকে গুরুদাসপুরের বাসিন্দা হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আব্দুল্লাহ এখানে ব্যাপকভাবে এগিয়ে আছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি। এই উপজেলায় আসিফের সঙ্গে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আলাল শেখ, খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামসহ চার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানরা।
বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস মিয়াজী ইত্তেফাককে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে দলীয় সিথিলতা রয়েছে। একারণে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আব্দুল্লাহকে যোগ্য মনে করে ট্রকের নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ আবদুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভন বলেন, তারা আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত সৈনিক। তার সাথে যারা আছেন তারাও আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত। আওয়ামী লীগের লোকজনই তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
এদিকে বড়াইগ্রাম উপজেলায় নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষে ভোটের মাঠে আছেন বড়াইগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিন আলী, জোনাইল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম, নগর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা শামসুজ্জোহা, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক এবং চান্দাই ইউপি চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভিন। এছাড়া গুরুদাসপুর থেকে রয়েছেন গুরুদাসপুর পৌর সভার মেয়র শাহনেওয়াজ আলী, নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, মশিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল বারী, চাপিলা ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ও গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব। তারা নির্বাচনী প্রচারে নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর সঙ্গে রয়েছেন।
সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত হওয়ায় দুইবার নৌকা পেয়েছেন। তিনি নৌকার সঙ্গে বেঈমানি করেননি। নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলার চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি। এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তিনি।
দলের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ঈগল প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টির আলাউদ্দিন মৃধা (লাঙ্গল প্রতীক), তৃণমূল বিএনপির আবদুল খালেক সরকার (সোনালী আশ), জাতীয় পার্টির (জেপি) এস এম সেলিম রেজা (বাইসাইকেল), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) গাজী আবু সায়েম রতন (নোঙ্গর), বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির শান্তি রিবেরু (ডাব) ও সুজন আহমেদ (দোলনা)।