৮৬ দিনের যুদ্ধে মারা পড়ছে ফিলিস্তিনের অসংখ্য নিরীহ লোক। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধে গত ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৮ জনই সাংবাদিক। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সব মিলিয়ে ২০ হাজার ৯১৫ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে হামাসকে প্রতিহত করতে গিয়ে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অন্তত ৫০১ সৈন্য নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েলে করা হামলাকে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ হিসেবে অভিহিত করে হামাস।
৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। প্রতিক্রিয়া হিসেবে গাজায় যুদ্ধের ঘোষণা দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসের হামলার প্রতিশোধ নিতে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি।’
৭ অক্টোবর: ইসরায়েলে মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ শুরু করে হামাস। প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের ঘোষণা দেন। ইসরায়লি বিমান বাহিনীর অভিযান শুরু।
৮ অক্টোবর: হামাসের অভিযানের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধে’র ঘোষণা করে ইসরায়েল। গঠিত হয় ‘যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা’।
৯ অক্টোবর: গাজা অঞ্চল অবরোধের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল।
১০ অক্টোবর: কাফার আজা অঞ্চল পুনরুদ্ধার করে ইসরায়েল। এ সময় হামাসের হামলায় ইসরায়েলের বেসামরিক লোকদের লাশ সংগ্রহ শুরু করে। তারা দাবি করে, এসব লাশ বিকৃত করা হয়েছে এবং নারী ও শিশুদের শিরচ্ছেদ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, গাজার উপকণ্ঠে তারা ৩ লাখ ৬০ হাজার সংরক্ষিত সৈন্য মোতায়েন করেছে। এছাড়া আল-দারাজ, আল-ফুরকানসহ গাজায় বন্দরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানানো হয়। রিমাল, আল-কারানায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। রাফা সীমান্ত ক্রসিংয়ে বিমান হামলার ফলে তা বন্ধ হয়ে যায়। হামলা চালানো হয় খান ইউনিসে হামাস নেতা মোহাম্মদ দেইফের বাসভবনেও। এতে তার বাবা, ভাই ও অন্য দুজন আত্মীয় নিহত হন।
১১ অক্টোবর: গাজায় ইসলামিক ইউনিভার্সিটির একাধিক ভবনে আঘাত হানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। ইসরায়েলের দাবি, ‘এটি অস্ত্র কারখানা ও হামাসের প্রশিক্ষণ গ্রাউন্ড। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্তজ গাদি আইজেনকোট ও রন ডার্মারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়ে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
‘আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি’
- বেন ইয়ামিন নেতানিয়াহু
প্রধানমন্ত্রী, ইসরায়েল
এদিন আশকেলনে রকেট বর্ষণ ও সেডরোট শহরে হামলা অব্যাহত ও গাজা সিটি বন্দরে ‘সাদা ফসফরাস আর্টিলারি প্রজেক্টাইল’ দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে গাজার একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি শেষ হয়ে যায় এবং সব ধরনের গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
১২ অক্টোবর: গাজাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। এদিন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা হামাসের অভিজাত নুখবা বাহিনী, তাদের কমান্ড সেন্টার ও হামাসের একজন সিনিয়র নৌ-অপারেটিভের বাসভবনে বোমা হামলা করেছে। এসব ভবনে অস্ত্র সংরক্ষণের বিষয়টিও জানানো হয়। এছাড়া ক্ষুদ্র দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডারের নিহতের খবর আসে।
১৩ অক্টোবর: গাজা শহরসহ ওয়াদি গাজার উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত অধিবাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এ সময় এটা ‘অসম্ভব’ বলে অভিহিত করে জাতিসংঘ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ‘বিধ্বংসী মানবিক পরিণতি’র বিষয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করে। এর অব্যবহিত কয়েক ঘণ্টা পরই জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থাকে রাফা নামক স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল।
এদিকে ইসরায়েলের এই সতর্কতার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ হামাসের অথোরিটি ফর রিফিউজি অ্যাফেয়ার্স সেখানকার অধিবাসীদের ‘নিজের ঘর থেকে অবিচল থাকার’ এবং জঘন্য এই ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে দাঁড়াতে নির্দেশ দেয়। জেনেভার সেবা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের এই সতর্কতা ‘আপত্তিকর’ এবং ‘চিকিৎসা সেবা ও মানবতাকে গলাটিপে ধরার চেষ্টা’।
১৪ অক্টোবর: ইসরায়েলের সতর্কতা জারির পর গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে অধিবাসীরা পালাতে থাকেন। এদিন হামাসের শীর্ষ কমান্ডার মুরাদ আবু মুরাদকে হত্যার খবর জানায় আইডিএফ। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের জন্য ৬ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় ইসরায়েল। গাজায় বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার মুখে তাদের যাতায়াতের পথ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।
১৬ অক্টোবর: গাজায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে ইসরায়েলের হামলায় ৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।
১৭ অক্টোবর: গাজার দক্ষিণাঞ্চলে হামলা জোরদার করে ইসরায়েল। সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় খান ইউনিস, রাফা ও দেইর-আল-বালাহ এলাকায় প্রায় ৭০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তাদের মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরাও আছেন।
একই দিন গাজার কেন্দ্রে থাকা আল-আহলি আল-আরাবি হাসপাতালে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ হামলার জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং হামাস এ ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি হাসপাতালে ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ৫০০ জন নিহতের তথ্য জানায়। তবে আইডিএফ এ ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদকে দোষারোপ করে। তবে ইসলামিক জিহাদের মুখপাত্র তা অস্বীকার করেন।
২০ অক্টোবর: এক সংসদীয় বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ৩ ধাপে যুদ্ধ চালিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নির্মূলের ঘোষণা দেন।
২৭ অক্টোবর: গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
২ নভেম্বর: গাজা অবরোধ শুরু করে ইসরায়েল।
২৪ নভেম্বর: কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় চারদিনের মানবিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। এই চারদিনে হামাস ৫৮ জন যুদ্ধবন্দীকে এবং ইসরায়েলের কারাগার থেকে ১১৭ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
২৭ নভেম্বর: কাতারের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের মধ্যে মানবিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুদিন বাড়ানোর চুক্তি হয়।
‘বিজয় না আসা পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। আমাদের লক্ষ্য আমাদের সব বন্দীকে মুক্ত করা’
১ ডিসেম্বর: গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তেলআবিব সফরে এসে নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘দক্ষিণ গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর আগে সেখানকার বেসামরিক লোকদের যেন সুরক্ষা দেওয়া হয়।’
৪ ডিসেম্বর: হামাস-ইসরায়েল মুখোমুখি যুদ্ধ চলতে থাকে। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে শরণার্থী ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকাজুড়ে বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা অব্যাহত রাখে ইসরায়েল। আল-শিফা হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থাপনা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
৮ ডিসেম্বর: গাজায় হামাসের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষ হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসরায়েলের মুখপাত্র ওফির গেন্ডেলম্যান।
৯ ডিসেম্বর: যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেওয়ায় তা নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়নি।
১১ ডিসেম্বর: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ও কাথাম হাউজের মেনা প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো সুমৃত খান সুজন আরব নিউজে ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে দুপক্ষই লাভবান হবে’ শিরোনামে এক নিবন্ধ লেখেন। এতে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান ঘটলে স্পষ্টতই ফিলিস্তিনিদের বেশি লাভ হবে। তবে ইসরায়েলেরও কম লাভ হবে না। কারণ, লম্বা সময় ধরে এই যুদ্ধ চলতে থাকলে নিজের খোড়া গর্তেই একসময় পড়ে যেতে হবে ইসরায়েলকে। নৈতিকতার প্রশ্নে তো বটেই, আন্তর্জাতিক সমর্থন হারানোর বিষয়টিও এক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে তেলআবিবের জন্য।’
‘হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে সহিংসতার দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে। এটাই গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার একমাত্র পথ’
১৩ ডিসেম্বর: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ১৫৩-১০ ভোটে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হয়। এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
২১ ডিসেম্বর: ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামাসের একজন কর্মকর্তা ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।একই দিন হামাস নেতার এই হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসের প্রস্তাবে অসম্মতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিজয় না আসা পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। আমাদের লক্ষ্য আমাদের সব বন্দীকে মুক্ত করা।’
২২ ডিসেম্বর: গাজায় বেসামরিক লোকদের কাছে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
২৫ ডিসেম্বর: হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে নতুন একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে মিশর। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ।
২৮ ডিসেম্বর: জাতিসংঘ কর্মীদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েল। এ ঘোষণা দেন ইসরায়েলের মুখপাত্র এইলন লেভি।
২৯ ডিসেম্বর: গাজায় অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে সহিংসতার দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে। এটাই গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার একমাত্র পথ।’
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরাইলে হামাসের হামলার পরই গাজায় নৃশংসভাবে বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এই হামলায় গাজার ৭০ ভাগ বাড়িঘর, কয়েক শ’ স্কুল, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে আইসিইউতে মরতে হয়েছে শিশুদের। ফিলিস্তিনিদের আটক করে অর্ধনগ্ন করে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া হামাসকে নিঃশেষ করার নামে ইসরাইলের নির্বিচারে বোমা হামলা ও গুলিতে ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ শিশু ও নারী। মৃত্যুর আগে এরা এদের অপরাধটাও জানতে পারল না। ২৩ লাখ গাজাবাসীর মধ্যে ২১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত। প্রায় তিন মাস ধরে অব্যাহত নৃশংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নেই।
জাতিসংঘ ও বিশ্ব মোড়লরা নিন্দা জানিয়েই ক্ষান্ত দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা যেন মানুষ নয়, তাই তাদের আত্মরক্ষার অধিকার নেই। ইসরায়েলিরা মানুষ বলেই পৃথিবীতে তারা আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে জন্মেছে। ফিলিস্তিনিরা বাঁচার জন্য হামলা চালালে তা হয় ‘সন্ত্রাসী হামলা’, উল্টোদিকে ইসরালের বর্বর হামলাকেও ‘আত্মরক্ষার হামলা’ বলে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ এখানে ক্ষমতার দম্ভটা যে বড়, তার বড় প্রমাণ এখানেই। সম্প্রতি জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৬ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার্ত। কেউ এক বেলা, কেউ দুই বেলা, কেউ আবার তিন বেলাই খেতে পারে না। স্বজনের লাশের চেয়ে এখন অনেকেই নিজের সন্তানকে বা নিজেকে বাঁচাতে খাবারের পেছনে ছুটছে।