সিরিজ না জিতলেও ‘সফরটি’ সফল বলছেন হাথুরু

এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ দল। হারের বৃত্ত ভেঙে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সাদা বলের দুই ফরম্যাটেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সম্ভাবনা ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়েরও। তবে তা হয়নি সমতা নিয়েই শেষ হয়েছে সিরিজটি। তবুও কম কি? যা এতদিন  পেতে মরিয়া হয়ে ছিল দল তা এবার পেয়েছে তাই টাইগারদের শ্রীলঙ্কান হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চোখে এই সফরটি সফল হয়েছে। গতকাল সিরিজের শেষ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হিসেবে এসে এমনটি জানিয়েছেন তিনি।

নেপিয়ারে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেওয়ার পর মাউন্ট মঙ্গানুইয়েতে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেও বেশ আঁটোসাঁটো বোলিং করছিল বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু ম্যাচটি ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে। তবে শেষ ম্যাচে গতকাল বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় স্রেফ ১১০ রানে। সেই পুঁজি নিয়েও তারা লড়াইয়ে হাল ছাড়েনি। ৪৯ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে দারুণভাবে। তবে শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ জিতে সিরিজ ড্র করে কিউইরা।

টাইগারদের এই সফর নিয়ে হাথুরু বলেন, ‘সিরিজের শুরুতে আমরা কথা বলেছি যে, আগে আমরা এখানে কেমন করেছি এবং এবার আরO ভালো কিছু করতে চেয়েছিলাম। তো সেদিক থেকে বলব এটা খুবই সফল সফর।’ এ সময় জিততে না পারায় হতাশ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুই ওভার পরই আমরা আলোচনা করেছি যে, এটা ১৬০ রানের উইকেট নয়। ১৪০-১৫০ রানের উইকেট এটা। তবে আমরা সেটাও করতে পারিনি। ভালো ব্যাট করিনি আমরা। রানের ঘাটতি আমাদের ছিল। তারপরও বোলাররা আমাদেরকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। সিরিজ জুড়ে আমরা যেভাবে বল করেছি, দারুণ ছিল তা। অবশ্যই তারা (ক্রিকেটাররা) হতাশ। আমরা সবাই জিততে চাই। এজন্যই এই খেলাটা আমরা খেলি। জয়ের সুযোগ আমরা নিজেদের দিয়েছিলাম। তবে যেমন বলেছি, এই উইকেটে যথেষ্ট রান আমরা করতে পারিনি।’

বাংলাদেশের এবারের সফরে তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন চোটের কারণে দলে ছিলেন না। তবে বিদেশের মাটিতে তাদের কমতি অনুভব করতে দেয়নি দলের তরুণ পেসার শরীফুল ইসলাম। এই গোটা সফরে বল হাতে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। টি-টোয়েন্টিতে হয়েছেন সিরিজ সেরাও। তাই সংবাদ সম্মেলনে টাইগার তরুণ এই পেসারকে নিয়ে প্রশংসা করতে ভুলেনি হাথুরু। সঙ্গে স্কোয়াডের একমাত্র লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের পারফরম্যান্সেও তিনি বেশ সন্তুষ্ট। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ড্রেসিংরুমে আলোচনা করেছিলাম তিন ফরম্যাটেই সম্প্রতি শরীফুল আমাদের জন্য অসাধারণ বল করছে। ৮ মাস আগে সে দলেই ছিল না, কোনো ফরম্যাটেই খেলছিল না। এখন সে সেরা বোলার। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে রিশাদ, আমরা একজন লেগ স্পিনারকে সাদা বলে ক্রিকেটে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। সে তার পরীক্ষায় উতরে গেছে।’

এর আগে ২০১৬-১৭ মৌসুমে হাথুরুসিংহের কোচিংয়েই ব্ল্যাকক্যাপসদের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে, তিন টি-টোয়েন্টি ও দুই টেস্ট খেলতে দেশটিতে গিয়ে বাংলাদেশ। তবে সেবার সবকটি হেরেছিল তারা। তবে এবার সফল আর এর জন্য ক্রিকেটারদের মানসিক পরিবর্তন ও দলের তরুণ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে কৃতিত্ব দিয়েছেন কোচ। বলেন, ‘ক্রিকেটারদের মানসিকতা এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই তরুণ দলটির কোনো ভয়ডর নেই। মাঠে নেমে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। আরেকটা ব্যাপার হলো, শান্তর নেতৃত্ব। সে অসাধারণ ছিল। নিখুঁত পরিকল্পনার ছক একে সে প্রতিপক্ষকে আটকানোর রাস্তা করেছিল। এছাড়া সে ক্রিকেটারদের বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব স্বচ্ছ ছিল—তারা কী আশা করতে পারে এবং তাদের কাছ থকে তার প্রত্যাশা কী। তার সঙ্গে এবার মৌলিক ব্যাপারগুলো আমরা আগের চেয়ে লম্বা সময় ধরে ঠিকঠাক করেছি।’