আমি এখনো আত্নবিশ্বাস হারাইনি: আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি

ইংরেজি নতুন বছরটা ঘটা করে উদ্যাপনের সুযোগ নেই। দুই দিন বিশ্রামে ছিল আবাহনীর ফুটবলার এবং কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি আর কোচিং স্টাফ। গতকাল বিকালে আবার অনুশীলন শুরু হয়েছে। কারো ভেতর প্রাণ নেই। দূরে দাঁড়িয়ে অনুশীলন দেখছিলেন আবাহনী দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আলমগীর।

ঢাকার মাঠে মোহামেডানের ডিফেন্ডার আবুলের পর লম্বা থ্রো করতেন আলমগীর। ছবির মতো থ্রো করতেন। সেই আলমগীর কাল আবাহনীর অনুশীলন দেখছিলেন। আর আফসোস করছিলেন। প্রশ্ন তুলছিলেন কেন দুইটা ম্যাচ এমন হয়ে গেল। বললেন, ‘অনুশীলন যা দেখি, সবই তো ঠিক আছে। আর্জেন্টিনার ফিজিও আছেন, তিনিও ভালো কাজ করছেন। বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ দেখেছিলাম। দারুণ খেলল প্রথমার্ধ। গোলের পর গোল মিস করেছে। মনে হচ্ছিল আবাহনী নিশ্চিত জয় পাবে। সেই দল চার গোলে হেরে গেল। কেন, এখনো বুঝতে পারছি না।’ আলমগীর বললেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে জেদ থাকতে হবে। আবাহনীকে জেতাতে হবে, একথা বুকে ধারণ করে লড়াই করতে হবে। প্রতিপক্ষকে খেলতে দেব না এমন জেদ নিয়ে থাকতে হবে। মনে হচ্ছে গোল মিসের কুফা লেগেছে।’

অনুশীলন চলছে। আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি দেখাচ্ছেন কলাকৌশল। ছিলেন কোচ জাকারিয়া বাবু, গোলকিপিং কোচ আতিকুর রহমান এবং আর্জেন্টাইন ব্রুনো এমানুয়েল। গোলকিপার শহিদুল আলম সোহেল খুব হতাশ। মনটা ভালো নেই। তার মতে ফরোয়ার্ডরা গোল না পেলে পরিস্থিতি ঠিক হবে না। বললেন, ‘ফর্টিসের বিপক্ষে আমরা গোলের সুযোগই পাইনি। ওরা ভালো সুযোগ পেয়েছিল।’ শিরোপা জয়ের সুযোগ কি শেষ হয়ে গেল? সোহেল বললেন, ‘দেখলে তো তাই মনে হয়। দেখা যাক, এখনো সময় আছে।’

অনুশীলনের পর কোচ ক্রুসয়ািনি ডাকলেন নজরুল, আতিক, জাকারিয়া বাবুসহ সবাইকে। মাঠের মাঝখানে ডেকে কথা বললেন। কথা শুনে ২০০ গজ দূরে অপেক্ষায় থাকা খেলোয়াড়দের কাছে গিয়ে আধঘণ্টা তাদের সঙ্গে কথা বললেন। সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। কোথায় কোথায় ভুল হয়েছে, তা বলা হলো, খেলোয়াড়দেরকে বোঝানো হলো। সামনের ম্যাচগুলো যেন ভুল পথে না যায়। এসব কথা বুঝিয়ে নতুন করে মাঠে নামার পরামর্শ কোচিং স্টাফদের। ক্রুসিয়ানি এবং স্বদেশি ব্রুনো এমানুয়েল তখনো দূরে দাঁড়িয়ে।

মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিক দেখে কোচ ক্রুসিয়ানি ঠোঁটে আঙুল চেপে বললেন—কোনো কথা নেই, বলেই হাসি দিলেন। লিগের প্রথম ম্যাচে ড্র, দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে আবাহনী। প্রসঙ্গ তুলতেই ক্রুসিয়ানি বললেন, ‘আমি এখনো আত্মবিশ্বাসী। হাল ছাড়িনি। দেখো লিগ এখনো অনেক দূরে। লিগ মাত্রই শুরু হয়েছে।’ সমস্যাটা কোথায় কোচ? ক্রুসিয়ানি বললেন, ‘আমি এখনো আমার মতো করে দলটা গড়ে তুলতে পারিনি। সেপে আনতে হবে। বিশেষ করে বিদেশিরা গোল পেতে হবে। ওরা গোল না পেলে সমস্যা। আমি যেভাবে আমার মনমতো করে সাজাতে চাই, সেটা এখনো হয়নি। আরো এক-দুই ম্যাচ লাগবে মনে হয়। আমি তো হাল ছাড়ব না।’

ট্রফির লড়াইয়ে আবাহনী থাকতে পারবে কি না? ক্রুসিয়ানি বললেন, ‘বসুন্ধরা কিংস শক্তিশালী দল। কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে দেখতে হবে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবও শক্তিশালী দল, মোহামেডানও ভালো খেলছে। একাধিক টিম ভালো খেলছে।’ ক্রুসিয়ানি হয়ত বুঝিয়ে দিচ্ছেন বসুন্ধরা কিংস শক্তিশালী হলেও তারা খুব সহজেই ট্রফি নিয়ে যাবে, তা ঠিক না। আরো বাধা আছে।’

হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছিলেন ক্রুসিয়ানি। নিজেই স্মরণ করিয়ে বললেন, ‘আমি যখন আগের বার সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন লিগের প্রথম পর্বে সাইফ ছিল ৭ নম্বরে। পরে সেই দলটাই অন্যরকম খেলতে শুরু করেছিল। ‘আবাহনী এখনো পথ হারায়নি। একটু অপেক্ষা করো। আবাহনীকে নিয়ে আমার মাথাও ঠিক নেই। আমি অনেক দুশ্চিন্তা করছি। এখন কথা বলার সময় না। মাঠে প্রমাণ করতে হবে।’ আক্রমণভাগের ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার ওয়াশিংটন বললেন, ‘গোল করার চেষ্টা তো কম করছি না। ভাগ্য কাজ করছে না।’